১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের

প্রকাশ:

আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পণ্য ও সেবা রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য মালয়েশিয়ার ব্যবসায়িক সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। শনিবার কুয়ালালামপুরে ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়া (এনসিসিআইএম) ও ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের (এফএমএম) সঙ্গে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের পৃথক মতবিনিময় সভায় এই আহ্বান জানানো হয়। তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও মালয়েশিয়ার পণ্য বিক্রির দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে, যা কাজে লাগাতে দেশটির বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এনসিসিআইএম আয়োজিত ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম: ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণ’ অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি তৈরি পোশাক, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, তথ্যপ্রযুক্তি, পাটজাত পণ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানিতে মালয়েশিয়ার সার্বিক সহায়তা প্রত্যাশা করেন। এ সময় এনসিসিআইএম সভাপতি নরসিয়াহরিন বিন হামদিন জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। মালয়েশিয়া থেকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির পাশাপাশি বাংলাদেশের উদীয়মান মধ্যবিত্ত শ্রেণির বাজারে মালয়েশিয়ান পণ্যের প্রসার ঘটানোর ওপর জোর দেন তিনি। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী।

এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর এফএমএম আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম: বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড অপরচুনিটিজ’ সভায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে আলোকপাত করেন এফএমএম সভাপতি জ্যাকব লি চোর কক। তিনি জানান, বেসরকারি খাতের পারস্পরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন সম্ভব। মালয়েশিয়ার সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এসব কর্মী বাংলাদেশে ফিরে নিজ দেশের শিল্পায়নে তাদের অর্জিত দক্ষতা ও বিশেষায়িত জ্ঞান কাজে লাগাতে পারবেন, যা মানবসম্পদ বিনিময়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

অনুষ্ঠানগুলোতে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরী, দেশটির মিনিস্ট্রি অব ইনভেস্টমেন্ট, ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ডিরেক্টর ড. রাশেদি সাইদ এবং ম্যাট্রেড পরিচালক নাইম আব্দুল রহমান উপস্থিত ছিলেন। উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে ঢাকা চেম্বার ও এফএমএম-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়, যাতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তাসকীন আহমেদ ও জ্যাকব লি চোর কক।

দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে প্রায় ৭০টি বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) ম্যাচমেকিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে ব্যবসায়ীরা সরাসরি বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আগামীতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও গভীর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন