বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান জননেতা জনাব তারেক রহমান এর ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দেখা গেছে এক অভূতপূর্ব গণজোয়ার ও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ) সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জ, মেঘনা, কুমিল্লা হয়ে ফেনী পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে জড়ো হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ও বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তাঁহাকে পথসভায় আবেগঘন অভ্যর্থনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সকাল ঠিক ১০:০০ ঘটিকায় ফেনী যাওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রীর সুসজ্জিত গাড়িবহর। এ সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার জনাব ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দে স্বাগত জানান। নেতাকর্মীরা করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শুভ যাত্রা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
ইকবাল হোসেনের জোরালো নেতৃত্বে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও দলীয় সমর্থক প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছবি সংবলিত নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড ও ব্যানার হাতে সমবেত হন। পুরো মহাসড়ক মুহূর্তের মধ্যেই মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে এবং এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা পথকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শৃঙ্খলা রক্ষা ও নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিশেষ সহযোগী ও পিএস মোঃ সেলিম। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে সারিবদ্ধভাবে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা এবং মহাসড়কের যানবাহন ও জনসাধারণের যেন কোনো ভোগান্তি না হয়, সেদিকে তিনি সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের প্রতি ভালোবাসার এই বিরাট কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালনা করা এবং প্রখর রোদের মধ্যেও পথপ্রান্তের প্রতিটি নেতাকর্মীর খোঁজখবর নেওয়া ও দেখভাল করায় উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষ ও দলীয় নেতৃবৃন্দ পিএস সেলিমকে অশেষ ধন্যবাদ জানান ও সাধুবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে দলীয় অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উক্ত সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা প্রদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মিজান, মোঃ আক্তার হোসেন (যুগ্ম আহ্বায়ক, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল), মোঃ রাজা মিয়া (সদস্য সচিব, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল), রিপন সরকার (আহ্বায়ক, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দল), সোলেমান পলাশ (বিশিষ্ট নেতা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদল), মোক্তার হোসেন (সাধারণ সম্পাদক, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহিউদ্দিন, মামুন, নাজমুল, মোঃ জনি, আশাদুল, আক্তার হোসেন, হাফিজ, জসিম, ইসমাইল, উজ্জ্বল, রাসেল, শাখাওয়াত হোসেন শেখা, মুসা, আরিফসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের অসংখ্য প্রবীণ ও নবীন নেতাকর্মী।
আজকের এই রাজকীয় অভ্যর্থনার সবচেয়ে মানবীয় ও আবেগময় দৃশ্যটি তৈরি হয় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ মহাসড়ক অতিক্রম করার সময়। প্রধানমন্ত্রীর পথসভায় কেবল বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরাই ছিলেন না, বরং অসংখ্য নারী তাঁদের কোলের অবুঝ শিশুদের নিয়ে প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে সকাল থেকেই মহাসড়কের আইল্যান্ডে ও রাস্তার পাশে ভিড় জমিয়েছিলেন। মায়েরা যখন শিশুদের কোলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে হাত নাড়ছিলেন, তখন তা পথচলতি সবার নজর কাড়ে।

নিñিদ্র নিরাপত্তাবেষ্টনী এবং এসএসএফসহ অন্যান্য বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর চোখ এড়ায়নি সাধারণ মানুষের এই অগাধ ভালোবাসা ও কোলের শিশুদের মায়াবী মুখ। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই আবেগঘন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কড়া নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে কয়েক সেকেন্ডের জন্য গাড়ির গতি কমান ও থামান। গাড়ির কাঁচ নামিয়ে কোলের শিশুদের দিকে তিনি অপলক দৃষ্টিতে তাকান এবং হাত নেড়ে কুশল বিনিময় করেন। ক্ষণিকের এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ও কোমলমতি শিশুদের মাঝে এক অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা উপস্থিত জনতাকে গভীরভাবে আলোড়িত ও আপ্লুত করে তোলে।

ঢাকা থেকে ফেনী পর্যন্ত যাত্রাপথের পুরো রুট জুড়েই স্থানীয় জনগণ, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা ও জেলা পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য অপেক্ষা করেন এবং মহাসড়কজুড়ে জয়ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলেন।





