ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন, যার ফলে সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। গত ২ জুলাই এই রুলের শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির এবং আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
উল্লেখ্য যে, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষিত হওয়ার পর ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন জামায়াত প্রার্থী মো. নুরুল আমিন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন গত ১৮ জানুয়ারি সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সেই আদেশ স্থগিত করে সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে রুল জারি করেন।
পরবর্তীতে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে ৩ ফেব্রুয়ারি তা মঞ্জুর হয়। ফলে সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ ছিল আদালতের। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশে ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ শুনানি শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশের ধারাবাহিকতায় আজ রায় ঘোষণার মাধ্যমে হাইকোর্টে এই রুল নিষ্পত্তি হলো।





