২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কী পরিবর্তন আনবেন

প্রকাশ:

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে সুস্থ রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তীব্র গরমে রোদ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করা জরুরি। পুষ্টিবিদদের মতে, এ সময় সঠিক খাবার নির্বাচন শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে এবং শক্তি জোগাতে সহায়তা করে। যদিও গরমের সময় ক্ষুধা কম লাগে, কারণ শরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হজমের সময় বাড়তি তাপ উৎপাদন কমাতে চায়। ২০১৮ সালে ‘পিএলওএস বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে থাকা তাপসংবেদী প্রোটিন তাপমাত্রা বাড়লে সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা পেট ভরা থাকার কৃত্রিম অনুভূতি তৈরি করে। তবে ক্ষুধা কম লাগলেও শরীরের পুষ্টির চাহিদা একই থাকে, তাই সঠিক খাবার বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

তীব্র গরমে ভারী ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। এসব খাবার হজম করতে পরিপাকতন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়, যা শরীরে বাড়তি তাপ তৈরি করে ক্লান্তি ও অলসতা বাড়িয়ে দেয়। প্রক্রিয়াজাত মাংস বা চিপসের মতো লবণাক্ত খাবার শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেয়, যা পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, আইসড টি বা কফি তৃষ্ণা মেটানোর বদলে শরীরকে আরও পানিশূন্য করে তোলে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা আইসক্রিমের পরিবর্তে ঘরে তৈরি ফলের রস বা আইসপপ খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবারও হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

খাদ্যতালিকায় মাংসের বদলে মাছ, ডিম ও শাকসবজির মতো কম চর্বির প্রোটিন রাখা ভালো, যা সহজে হজম হয়। তবে পচনশীল খাবারগুলো ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচের তাপমাত্রায় রাখা উচিত এবং এক ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা ঠিক নয়। গরমে তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে সারা দিন অল্প অল্প করে পানি পান করতে হবে। সাধারণ অবস্থায় দৈনিক ৮ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ থাকলেও, অতিরিক্ত ঘাম হলে এর পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

গরমে শরীর থেকে পানি ও ইলেকট্রোলাইট—যেমন সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম—দ্রুত বেরিয়ে যায়। এই খনিজগুলো স্নায়ু ও পেশির সচলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই ঘাটতি পূরণে ডাবের পানি, তরমুজ ও কমলার রস দারুণ কার্যকর। এছাড়া শাকসবজি ও ফলে প্রচুর পানি থাকে; তরমুজে ৯০ শতাংশ ও শসায় প্রায় ৯৭ শতাংশ পানি বিদ্যমান। ফলের স্মুদি বা জুস আইসক্রিমের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। অনেকে গরমে মসলাদার খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন, তবে শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব থাকলে এটি গ্যাস্ট্রিক বা পেটের অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই সব সময় পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করেই যেকোনো খাবার গ্রহণ করা উচিত।

শেয়ার করুন