আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দেওয়ার পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিএনপির আন্দোলনের ফসল।
এদিকে রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়টি বহাল রেখেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, পঞ্চদশ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট ব্যবস্থা ফিরে আসা এবং সংবিধানে ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদ বাতিলের যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন, তা এখন বহাল রইল।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করেছিল, যার মাধ্যমে সংবিধানে ৫৪টি পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বীকৃতি, জাতীয় চার মূলনীতি পুনর্বহাল এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে দুটি আলাদা রিট দায়ের করা হয়। এর চূড়ান্ত শুনানির পর ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট বাদ দেওয়ার বিধানসহ ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় গত বছরের ৮ জুলাই প্রকাশিত হওয়ার পর সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি লিভ টু আপিল করেন। গত বছরের ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ সেই লিভ মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তীতে তিনটি আপিল দায়ের করা হয়, যা আজ বৃহস্পতিবার খারিজের মাধ্যমে হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকল।





