২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ এনবিআরের

প্রকাশ:

পোশাকশ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় আর্থিক ও জনবল দিয়ে সহায়তার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ীসহ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব ও তা জব্দের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ই-মেইলের মাধ্যমে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকে এই জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই লেনদেন স্থগিতের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তিনি বলেছিলেন, সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এর আগে গত মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব ৩৪ জন ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এনবিআরের একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, প্রাথমিক সেই তালিকার চেয়ে বর্তমানে তালিকাটি আরও দীর্ঘ হয়েছে এবং এর সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোতে সম্ভাব্য তালিকা পাঠানো হয়েছে।

তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, তাজুল ইসলাম, খসরু চৌধুরী ও মোশাররফ হোসেন।

এ ছাড়া ফয়জুর রহমান বাদল, আবদুস ছালাম, জাহিদ আহমেদ টুলু এবং মাসুমা খাতুন লিপার মতো ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের নামও এই তালিকায় রয়েছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনেকের ব্যাংক হিসাব এর আগেও দুদক বা অন্যান্য সংস্থার আবেদনের প্রেক্ষিতে জব্দ করা হয়েছিল। তালিকাটি প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করা হচ্ছে।

মিরপুর এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের অস্থিরতায় ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে সাবেক এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচি এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাব জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, আলিফ মোল্লা, কামাল গাজী ও শুভ নামে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের ব্যাংক হিসাবও এই নির্দেশনার আওতায় পড়েছে।

এর আগে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, দেশের পোশাক খাতের অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের ইন্ধন রয়েছে। সরকারের কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং কয়েকজন শিল্পমালিকও এই কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেছিলেন। বর্তমানে এনবিআর তাদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। এ তালিকায় দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর মালিকদের পাশাপাশি সাবেক সরকারের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে।

শেয়ার করুন