বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। প্রখ্যাত ইতালীয় চলচ্চিত্রকার তিন্তো ব্রাস ৪ নভেম্বর রোমে ৯৩ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর প্রয়াণের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইতালির খ্যাতনামা সংবাদ সংস্থা আনসাকে তথ্য জানান তাঁর জীবনসঙ্গী কাতেরিনা ভার্জি এবং দুই সন্তান বিয়াত্রিচা ব্রাস ও বোনিফাচিও ব্রাস। ষাট ও সত্তরের দশকে রুপালি পর্দায় নান্দনিক রূপকল্প, সেন্সরশিপের বাধা অতিক্রমের প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক ধারাভাষ্যের সংমিশ্রণে তিনি নিজস্ব এক স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তবে ইরোটিক সিনেমার নির্মাতা পরিচয়ের আড়ালে ছিলেন ভিন্নধর্মী এক নিরীক্ষাধর্মী চলচ্চিত্রকার। চলচ্চিত্রের ইতিহাস, বিভিন্ন দেশের নির্মাণশৈলী এবং সিনেমার ভাষা সম্পর্কে জানার সুযোগ হয় তাঁর। তবে বিষয়বস্তু ও দৃশ্যায়নের কারণে ছবিটি বিতর্কও তৈরি করে।
প্রারম্ভিক জীবন ও সেলুলয়েডের জগতে প্রবেশ
১৯৩৩ সালের ২৬ মার্চ ইতালির মিলান শহরে এক নামজাদা শিল্পানুরাগী ও সাংস্কৃতিক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেন তিন্তো ব্রাস। তাঁর বংশানুক্রমিক শেকড় ছড়িয়ে ছিল ভেনিসের শিল্পকলা চর্চার ঐতিহ্যময় পরিবেশের সঙ্গে। প্রাথমিক বয়সে পারিবারিক আবহে সৃজনশীল চর্চার ছোঁয়া পেলেও শিক্ষা জীবনের শুরুতে তিনি আইন বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করেন। তবে সেই পেশায় নিজেকে যুক্ত না রেখে পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে তিনি চলচ্চিত্রের বিশ্বকোষীয় আকর্ষণে আত্মনিয়োগ করেন। ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সংস্কৃতির আবহে বেড়ে ওঠা। ব্রাস ও ভিডালের আপত্তি ছিল, তাঁদের পরিকল্পিত চলচ্চিত্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সংস্করণের মিল নেই।
পরিচালক হিসেবে তিন্তো ব্রাসের অভিষেক ঘটে ১৯৬৩ সালে, যখন তিনি ‘ইন কাপো আল মন্ডো’ শীর্ষক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ক্যামেরাবন্দী করেন। পরবর্তীতে এই ছবিটি ‘কি লাভোরা এ পারদুতো’ নামধারণ করে সর্বসমক্ষে আসে। ভেনিস শহরের পটভূমিতে প্রস্তুতকৃত এই কাহিনীতে এক হতাশায় নিমজ্জিত বেকার যুবকের সামাজিক সংগ্রাম ফুটে ওঠে। এটি ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বেশ ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিল, যা তাঁর স্বতন্ত্র ক্যারিয়ারের গোড়াপত্তন নিশ্চিত করে।
নান্দনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক পদচারণা
ইতালীয় এই প্রথাবিরোধী নির্মাতা ১৯৬৪ সালে বিখ্যাত ইতালীয় প্রর্দশনী ‘ত্রিয়েনালে দি মিলানো’র সার্বিক সহায়তায় দুটি ব্যতিক্রমী স্বল্পদৈর্ঘ্য চিত্র নির্মাণে হাত দেন। বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও ঔপন্যাসিক উমবের্তো একোর প্রত্যক্ষ উদ্যোগ এবং নির্দেশনায় এই প্রকল্প দুটি রূপ পায়। ষাটের দশকের শেষভাগ থেকে সত্তরের দশকের শুরু পর্যন্ত ব্রাস তাঁর সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে লন্ডন শহরকে বেছে নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরের একাধিক আলোচিত সিনেমা উপহার দেন। সেখানে সিনেমাথেক ফ্রঁসেজে আর্কাইভিস্ট ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একসময় তাঁকে সত্তরের দশকের ‘আন্তোনিওনি’ বলেও অভিহিত করা হয়েছিল।
১৯৬৭ সালে মুক্তি পায় তাঁর বহুচর্চিত সেলুলয়েড প্রয়াস ‘ডেডলি সুইট’, যার মূল ইতালীয় নামকরণ ছিল ‘কোল কুওরে ইন গোলা’। এই টানটান থ্রিলার গোত্রীয় চলচ্চিত্রে মূখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন ফরাসি তারকা জ্যঁ-লুই ত্রিনতিনিয়াঁ এবং সুইডিশ মডেল-অভিনেত্রী ইভা অলিন। কাহিনীতে দেখা যায়, এক তরুণ বাণিজ্যিক কাজের সন্ধানে এসে আচমকা মারাত্মক এক হত্যাকাণ্ডের সমক্ষে এসে পড়ে। আইনের দ্বারস্থ হওয়ার পরিবর্তে সে অপরাধচক্রের কবল থেকে এক অসহায় তরুণীকে উদ্ধার করতে উদ্যত হয় এবং নিজেই অন্ধকার জগতের এক জটিল আবর্তে নিমজ্জিত হয়। একজন তরুণ ব্যবসায়িক যোগাযোগের সূত্রে এক হত্যাকাণ্ডের মুখোমুখি হয়। পুলিশের কাছে না গিয়ে ঘটনাস্থলে থাকা এক তরুণীকে রক্ষা করতে গিয়ে সে জড়িয়ে পড়ে অপরাধজগতের সংঘাতে। ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায়কে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিতে অভিনয় করেন হেলমুট বার্গার।
- ১৯৬৩: আত্মপ্রকাশমূলক সিনেমা ‘ইন কাপো আল মন্ডো’ নির্মাণ।
- ১৯৬৪: চিন্তাবিদ উমবের্তো একোর তত্ত্বাবধানে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি।
- ১৯৬৭: জ্যঁ-লুই ত্রিনতিনিয়াঁ অভিনীত ‘ডেডলি সুইট’ প্রকাশ।
- ১৯৬৯ ও ১৯৭০: মনস্তাত্ত্বিক কাহিনীর ‘অ্যাট্রাকশন’ ও ‘ড্রপআউট’ পরিচালনা।
- ১৯৭১: তারকা জুটি ভেনেসা রেডগ্রেভ ও ফ্রাঙ্কো নেরোকে নিয়ে ‘লা ভাকানজা’ প্রযোজনা।
নান্দনিকতা, সমাজ ও রাজনীতির মেলবন্ধন
১৯৬৯ সালে ‘অ্যাট্রাকশন’ এবং ১৯৭০ সালে ‘ড্রপআউট’ নামীয় দুটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করে ব্রাস চলচ্চিত্রে নিজস্ব ভাষা তৈরির প্রমাণ দেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে তিনি পর্দায় নিয়ে আসেন ‘লা ভাকানজা’, যাতে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন কিংবদন্তি ভেনেসা রেডগ্রেভ এবং ইতালীয় তারকা ফ্রাঙ্কো নেরো। এসব কাজে কেবল প্রথাগত দৃশ্যকাব্য নির্মাণ নয়, বরং সম্পাদনার দ্রুত সংকেত ও মনস্তাত্ত্বিক নানা টানাপোড়েন পর্দায় ফুটিয়ে তোলাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। অপরাধ, রহস্য ও রোমাঞ্চের সঙ্গে ছবিটিতে ছিল ব্রাসের নিজস্ব দৃশ্যভাষার প্রয়োগ। এই সময়ের কাজগুলোতে তিনি কেবল গল্প বলার দিকে মনোযোগ দেননি; বরং দৃশ্যের বিন্যাস, সম্পাদনার গতি এবং চরিত্রের মানসিক অবস্থাকে ভিন্নভাবে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তবে সেটিও ব্রাসের সম্পাদনা ছিল না, তিনি সেটিকে অনুমোদনও করেননি।
পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অতিমাত্রায় নগ্নতা ও কামজ দৃশ্যায়ন সম্পর্কিত বিতর্কের সম্মুখীন হলেও তিন্তো ব্রাসের শুরুর জীবনের এই চলচ্চিত্রগুলো ছিল মূলত পরীক্ষাধর্মী রাজনৈতিক ও বিদ্রোহী রূপরেখার। চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, সে সময়ের প্রথা ভাঙার অদম্য বাসনাই তাঁকে পরবর্তীকালে বিশ্বের অন্যতম প্রথাবিরোধী নির্দেশকের আসনে সমাসীন করেছিল।
‘সালোঁ কিটি’: ক্ষমতার দ্বন্দ্বে যৌনতার ব্যবহার
১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সালোঁ কিটি’ চলচ্চিত্রটি তিন্তো ব্রাসের পরিচালন জীবনের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বার্লিন শহরের এক অভিজাত ডেরাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছিল এই সিনেমার প্রেক্ষাপট। নাৎসি বাহিনীর সামরিক গোয়েন্দা দপ্তর সেই বিশেষ স্থানটিকে নিজ মিত্র ও প্রতিপক্ষ কর্মকর্তাদের গোপন তথ্য সংগ্রহের ঘাঁটি হিসেবে গোপনে ব্যবহার করত। ‘সালোঁ কিটি’: যৌনতা, নাৎসিবাদ ও ক্ষমতার রাজনীতি ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সালোঁ কিটি’ ব্রাসের চলচ্চিত্রজীবনে বড় পরিবর্তন আনে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ১৯৮০ সালে মুক্তি পাওয়া সংস্করণে ব্রাসের নাম পরিচালকের পরিবর্তে মূল চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে শুধু সুড়সুড়িমূলক উপস্থাপন হিসেবে না দেখে ‘সালোঁ কিটি’কে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবনে সরকারি আগ্রাসনের এক গভীর রূপক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ছবিটির দৃশ্যসজ্জা ও সরাসরি উপস্থাপনার দরুন কঠোর সেন্সর বোর্ডে জটিলতা দেখা দিলেও এটি ‘পেন্টহাউস’ ম্যাগাজিনের স্রষ্টা বব গুচিওনের বিশেষ নজর কাড়তে সক্ষম হয়। ফলশ্রুতিতে তিনি ব্রাসকে আরও একটি বিশালাকার আন্তর্জাতিক প্রকল্পের দায়িত্ব প্রদান করেন।
‘ক্যালিগুলা’: সৃজনশীলতার দ্বন্দ্ব ও বিতর্কিত অধ্যায়
বব গুচিওনের প্রযোজনা ও পরিচালকের যৌথ প্রচেষ্টায় ১৯৭৯ সালে সমাপ্ত হয় বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম জাঁকজমকপূর্ণ ও বিতর্কিত সিনেমা ‘ক্যালিগুলা’। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের অত্যাচারী ও বিকারগ্রস্ত শাসক ক্যালিগুলার জীবনপ্রবাহ ছিল এই চলচ্চিত্রের উপজীব্য। নাম ভূমিকায় ছিলেন বিশ্বখ্যাত অভিনেতা ম্যালকম ম্যাকডাওয়েল, এবং সহকারী চরিত্রে অভিনয় করেন হেলেন মিরেনের মতো কালজয়ী তারকারা। আরও ছিলেন হেলেন মিরেন, পিটার ও’টুল ও জন গিলগুড।
বিশাল বাজেটের এই আয়োজনে রাজকীয় ক্ষমতা, নগ্নতা, ভীতি ও কামোত্তেজনার এক শৈল্পিক উপস্থাপন চেয়েছিলেন পরিচালক। কিন্তু কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর মূল শিল্পীদের অনুপস্থিতিতে প্রযোজক গুচিওনে অত্যন্ত স্পষ্ট ও উদোম যৌন দৃশ্য ধারণ করে মূল চলচ্চিত্রে যুক্ত করেন। চিত্রনাট্যকার গোর ভিডাল ও পরিচালক তিন্তো ব্রাস তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মামলা পর্যন্ত করেন এবং চলচ্চিত্র থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করার আইনি দাবি উত্থাপন করেন। নারীর স্বাধীনতা ও আকাঙ্ক্ষাকে সামনে আনার দাবি থাকলেও, তাঁর ছবিতে নারীর শরীরের উপস্থাপন কতটা মুক্তির, আর কতটা পুরুষ দর্শকের দৃষ্টিকে তৃপ্ত করার—এ প্রশ্নও উঠেছে।
- প্রযোজক বব গুচিওনের সঙ্গে সৃজনশীল স্বাধীনতার চরম দ্বন্দ্ব।
- চিত্রনাট্যকার গোর ভিডাল ও পরিচালক ব্রাসের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ।
- সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ হরণ এবং বিশ্বব্যাপী প্রবল আলোড়ন ও বিতর্ক সৃষ্টি।
পরবর্তী চলচ্চিত্রসমূহ ও শৈল্পিক দর্শন
‘ক্যালিগুলা’ ট্র্যাজেডির পর তিন্তো ব্রাস নিজের স্বতন্ত্র শৈল্পিক জগত গঠনে আরও ব্রতী হন। ১৯৮৩ সালে জাপানি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক জুনিচিরো তানিজাকির সাহিত্যকর্মের ওপর ভিত্তি করে তিনি নির্মাণ করেন ‘দ্য কি’, যাতে অভিনয় করেছিলেন স্তেফানিয়া সান্দ্রেল্লি। একজন নারী ও পুরুষের গভীর ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা ও মানসিক টানাপোড়েন এই ছবিতে বিশ্বস্ততার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়।
এর পরপরই তিনি একে একে উপহার দেন ‘মিরান্দা’ (১৯৮৫), ‘ক্যাপ্রিচিও’ (১৯৮৭), ‘পাপরিকা’ (১৯৯১) এবং ‘কোসি ফান তুত্তে’ (১৯৯২)। নব্বইয়ের দশক থেকে দুহাজারের গোড়ার দিক পর্যন্ত তাঁর হাত দিয়ে আসে ‘ল’উমো চে গুয়ারদা’ (১৯৯৪), ‘মোনেলা’ (১৯৯৮), ‘ব্ল্যাক অ্যাঞ্জেল’ (২০০২) ও ‘ফালো’ (২০০৩)।
জীবনাবসান, স্মৃতির পুনর্জন্ম ও শেষ ইচ্ছা
ইতালীয় সাময়িকী ‘লা রিপাবলিকা’কে দেওয়া এক বিশেষ আলাপে ব্রাস বলেছিলেন, মানুষের প্রবৃত্তি ও মানসিক অভিব্যাক্তি উন্মোচনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো দেহতত্ত্ব ও যৌনাকর্ষণ। নারীর অবয়বকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে এই দৃষ্টিভঙ্গিই ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। যদিও চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের অনেকেই তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, কিন্তু তিনি শেষ দিন পর্যন্ত নিজের সৃজনশীল দর্শনে অবিচল ছিলেন। প্রচলিত রীতিকে প্রশ্ন করা, সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আর যৌনতাকে মানুষের অভিব্যক্তির অংশ হিসেবে দেখার চেষ্টা—এসবই ছিল তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের বৈশিষ্ট্য।
২০১০ সালে মারাত্মক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৬ সালের বিখ্যাত ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর ১৯৬৭ সালের ধ্রুপদী সৃষ্টি ‘ডেডলি সুইট’ (ইতালীয় নাম ‘কোল কুওরে ইন গোলা’)-এর ডিজিটাল পুনর্নির্মিত সংস্করণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শন করে তাঁকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়। ২০২৩ সালে প্রযোজকের সংযোজন বাদ দিয়ে নতুন সম্পাদিত একটি সংস্করণ প্রকাশ করা হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে ২০১৭ সালে তিনি দীর্ঘদিনের সঙ্গী কাতেরিনা ভার্জির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ৯০তম জন্মবার্ষিকীর এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে এই কিংবদন্তি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যে, তাঁর মৃত্যুর পর যেন দেহভস্ম কোনো প্রথাগত সমাধিভূমিতে না রেখে প্রিয় শহর ভেনিসের উন্মুক্ত জলরাশিতে বিসর্জন দেওয়া হয়। ৪ রোমের হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের এক ঝোড়ো এবং অনবদ্য অধ্যায়ের চিরসমাপ্তি ঘটল।





