তিন দিন ধরে চলা হামলা-পালটা হামলার সাময়িক বিরতি ভেঙে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে মার্কিন দাবি অনুযায়ী, নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্রই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। যদিও হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্যমতে, ইরাকের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র ও রসদ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। গত ৭২ ঘণ্টায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নির্দেশে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে মঙ্গলবার সৌদি আরব জানিয়েছিল যে, তাদের সামরিক বাহিনী দেশটির পূর্বাঞ্চলে তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই ঘটনার জন্য ইরাকের ভূখণ্ডে সক্রিয় ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেন।
এই নতুন সংঘাতের ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার যে ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হামলার ঠিক একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তখন টানা তিন দিন দুই পক্ষের মধ্যে কোনো হামলা-পালটা হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও চলাচলের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এখনো আলোচনার মূল বাধা হিসেবে রয়ে গেছে, যদিও ইরান এ ধরনের কোনো আলোচনার অস্তিত্বই অস্বীকার করে আসছে।
পেন্টাগনের তথ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬২৪ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪১৭ জনই আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-সংক্রান্ত ঘটনায়। সেন্টকমের হুঁশিয়ারি, মার্কিন সামরিক জবাব এড়াতে হলে ইরান এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধ করতে হবে।





