ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে শনিবার রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, হামলায় আবাসিক ভবনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শনিবার ভোর থেকেই ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৫০০টি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। জেলেনস্কির মতে, সম্মুখযুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেয়ে রাশিয়া এখন ইউক্রেনের অর্থনীতি ও অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে দেশটির প্রতিরোধ শক্তিকে ভেঙে দিতে চাইছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষকে সহায়তা প্রদানকারী স্থাপনাগুলোই মূলত রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তু।
ফ্রন্টলাইনের গুরুত্বপূর্ণ শহর ক্রামাতোরস্কে ৯০ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি পৃথক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় ব্যক্তিগত গাড়িগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যেখানে কোনো সামরিক উপস্থিতি ছিল না। এছাড়া কিয়েভের পশ্চিমে জিতোমির অঞ্চলের জভিয়াখেল শহরে একটি মুদি দোকানে রুশ হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ভিতালি বুনেচকো। তিনি আরও জানান, দুটি পেট্রল স্টেশন এবং বিদেশি বিনিয়োগে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়েছে।
জাপোরিঝঝিয়া ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহেও বড় ধরনের হামলা হয়েছে। জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানিয়েছেন, সেখানে হামলায় দুইজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। ক্রিভি রিহে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও দুইজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন শহরটির সামরিক প্রশাসনের প্রধান। এদিকে কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী ওদেসায় রাতভর শুরু হওয়া হামলায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার।
অন্যদিকে, রাশিয়াও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সামারা অঞ্চলের তোগলিয়াত্তিতে একটি শিল্প কারখানায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আগুন লাগার তথ্য জানিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, কারখানাটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানিতে ব্যবহৃত কৃত্রিম রাবার ও জ্বালানি সংযোজনী উৎপাদন করে। সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ ড্রোন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তোগলিয়াত্তির মেয়র ইলিয়া সুখিখ জানিয়েছেন, হামলায় একজন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে সীমান্তবর্তী মলদোভাতেও। সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির আকাশসীমা প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয় এবং সাতটি সীমান্ত পারাপার সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া ও দিনিপ্রোর ইস্পাত কারখানা এবং ক্রিভি রিহের বিভিন্ন শিল্প স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ওদেসা ও চোরনোমর্স্ক বন্দরে সামরিক কাজে ব্যবহৃত কার্গো জাহাজে হামলার দাবিও করেছে মস্কো। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীও রাশিয়ার শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে। তবে উভয় পক্ষের এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।





