ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়

প্রকাশ:

আয়ারল্যান্ড সফরের প্রথম দিনেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডকে একত্র করে একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে দ্রুত আলোড়ন সৃষ্টি করে। এটি কি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নাকি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দেওয়া একটি তাৎক্ষণিক মন্তব্য—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে উত্তর আয়ারল্যান্ডবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মিক মুলভানি বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তনের সংকেত নয় এবং ওয়াশিংটন এখনো 'গুড ফ্রাইডে চুক্তি'র প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ব্রেন্ডান বয়েলও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ওই চুক্তির প্রতি দুই দলেরই সমর্থন অটুট রয়েছে এবং তা পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।

তবে বিষয়টি কেবল সাংবাদিকদের প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ডাবলিনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে দেওয়া বক্তব্যেও ট্রাম্প পুনরায় ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। ব্যবসায়িক নেতাদের সামনে দেওয়া সেই বক্তৃতায় তিনি আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন চুক্তি সম্পন্ন করাকে নিজের সাফল্যের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে, ইরানের সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের সমর্থনের ঘাটতি নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সময় ও ধরণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রিপাবলিকান পার্টি বর্তমানে বিভিন্ন নীতির কারণে চাপে রয়েছে এবং কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ আইরিশ বংশোদ্ভূত। যদিও তারা একক কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী নন, তবুও তাদের একটি অংশ ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে অবস্থান নেয়। নব্বইয়ের দশকে বিল ক্লিনটন আইরিশ-আমেরিকানদের সমর্থন পেয়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়ায় সফল হয়েছিলেন, যার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি। বর্তমানের তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার, নাকি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ—তা এখন বড় আলোচনার বিষয়।

তাদের একটি অংশ ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে।১৯৯০-এর দশকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আইরিশ-আমেরিকানদের সমর্থন পেয়েছিলেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে।

শেয়ার করুন