ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে ব্লকটির নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে 'নয়াদিল্লি ঘোষণা-২০২৬' গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করেই একতরফা শুল্কনীতির কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। ঘোষণাপত্রে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনে 'একতরফা যুদ্ধমূলক কর্মকাণ্ড' প্রত্যাখ্যান করে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক উত্তেজনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নেতারা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া গাজা ইস্যুতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের জন্য জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য পদের দাবির প্রতিও ব্রিকস সমর্থন জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গত দুই দশকে ব্রিকস বিশ্বমঞ্চে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। তিনি আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বর্তমান পিরামিড কাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, গুটিকয়েক দেশ নীতি নির্ধারণ করে আর বাকিরা তার প্রভাব ভোগ করে। মোদি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পদের জন্য ভারতের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে সংস্কার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি ব্রিকস সদস্যদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরোধিতা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে কেন্দ্র করে বহুমুখী বাণিজ্য ব্যবস্থা সমর্থনের আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন উদ্যোগ প্রস্তাব করেছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেন। সম্মেলনে রাশিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও ব্রিকস উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে সংলাপের ওপর জোর দিয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, আলোচনার ফাঁকে জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও উঠেছিল।





