জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, গুলশানে গিয়ে মিছিল করে কোনো লাভ নেই। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই এবং বিচারের মুখোমুখি হওয়া ছাড়া বাংলাদেশে তাদের ফেরার আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই। রোববার এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে গিয়ে যে পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল, সেই পথ থেকে বেরিয়ে এসে মা-বাবার দেখানো পথে ফিরে আসাটাই শ্রেয়। তিনি বলেন, আমরা রিকনসিলিয়েশন বা রিহ্যাবিলিটেশনের কথা শুনি, কিন্তু বিচারের আগে বাংলাদেশে তাদের কোনো সুযোগ নেই। আদালত যদি তাদের অপরাধী সাব্যস্ত করে, তবেই শাস্তির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
বর্তমান বিচারব্যবস্থা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, বিচারালয়কে দুর্নীতিগ্রস্ত জায়গা বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। তার মতে, আওয়ামী লীগকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি আরও বলেন, দলীয় পরিবার এখন শেখ সেলিমকে দায়িত্ব দিয়ে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কখনোই গণতান্ত্রিক দল ছিল না, বরং এটি বাংলাদেশে ভারতের একটি এক্সটেনশন হিসেবে কাজ করেছে।
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে নাসীরুদ্দীন বলেন, যারা সেখানে নেমেছিল তাদের রাস্তায় সাইজ করা হয়েছে, যা হয়তো মিডিয়ায় আসেনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যারা নামবে তাদেরও একইভাবে মোকাবিলা করা হবে। জুলাই গণহত্যার বিচার না করে এলাকায় চাঁদাবাজি ও মামলা করার বিষয়টিকে তিনি সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
চাঁদাবাজির বিষয়ে এই নেতা বলেন, সরকার চাঁদাবাজি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি একে সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, লং মার্চে জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে নতুন দফা যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান, নিজের মা-বাবার আদর্শের পথে ফিরে আসার জন্য, কারণ অন্য কোনো পথই ভালো নয়।





