মার্কিন সিনেটে ডেমোক্রেটদের বাধায় আটকে গেল ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বিল

প্রকাশ:

মার্কিন সিনেটে ট্রাম্প প্রশাসনের ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতি বিলটি ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে আটকে গেছে। ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএসি) নামের এই বিলটি এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৬০টি ভোটের বিপরীতে সিনেটে মাত্র ৫০টি ভোট পাওয়া গেছে। যদিও ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ৪৬টি ভোট পড়েছিল এবং সাধারণত এই বিলটি শক্তিশালী সমর্থন নিয়ে পাস হয়ে থাকে, তবে এবার তা হোঁচট খেল।

সিনেটে ডেমোক্রেট দলীয় নেতা চাক শুমার এক ভাষণে এই বিলের বিপক্ষে ভোট দেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট কৌশল, অনুমোদন বা যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ ছাড়াই এই যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের সাথে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে, এই বিল পাস হলে তা ইরান যুদ্ধের একপ্রকার স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে বলে ডেমোক্রেটরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ভোটাভুটির সময় ডেমোক্রেটরা দলগতভাবে বিলের বিপক্ষে অবস্থান নেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে শুধুমাত্র জন থুন কৌশলগত কারণে ‘না’ ভোট দেন, যাতে বিলটি পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকে। এদিকে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন করে নৌ-অবরোধ আরোপ এবং নতুন হামলার ঘটনায় ডেমোক্রেটদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিষয়েও ডেমোক্রেটদের আপত্তি রয়েছে। তারা বলছেন, সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার করার চেষ্টা চলছে, অথচ একই সময়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের সামাজিক কর্মসূচির বাজেট কমানো হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিলের ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসন বাজেট রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ায় আরও ৩৫০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে, যা ডেমোক্রেটদের সমর্থন ছাড়াই পাস করা সম্ভব। তবে রিপাবলিকান নেতা জন থুন ডেমোক্রেটদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তার চেয়ে রাজনীতিকে প্রাধান্য দেয়ার অভিযোগ তুলে দাবি করেন যে, এই বিলটি সামরিক বাহিনীকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত রাখতে অপরিহার্য। বিগত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত পাস হয়ে আসা এই বিলটি এবার প্রতিরক্ষা বাজেট ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে ধোঁয়াশার কারণে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএসি) নামক এই বিলটির ওপর পদ্ধতিগত ভোটাভুটিতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ‘না’ ভোটের চেয়ে বেশি (৫০-৪৬) হওয়া সত্ত্বেও, ১০০ সদস্যের সিনেটের উচ্চকক্ষে বিলটি এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৬০টি ভোট পায়নি।

শেয়ার করুন