৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লঞ্চভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব

প্রকাশ:

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর লঞ্চের যাত্রীভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থা। একই সঙ্গে তারা বর্ধিত এই তেলের দাম প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে। মঙ্গলবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট গোলাম নবী আলমগীর এই প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এতে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। লঞ্চগুলো সম্পূর্ণ ডিজেল ও মবিলনির্ভর হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিচালন ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৯৫ পয়সা, যা বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, যা প্রায় ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি। অন্যদিকে ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ২ টাকা ৫২ পয়সার পরিবর্তে ৪ টাকা ২ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা প্রায় ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির সমান। এছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

যাত্রীভাড়া বৃদ্ধির যুক্তিতে চিঠিতে বলা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ’র বিভিন্ন ফি ও চার্জ এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ, বার্ডিং চার্জ ১১৪ শতাংশ এবং রুট পারমিট আবেদন ফরমের ফি ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি মালিকানা পরিবর্তন, নাম বদল ও নিবন্ধনসহ বিভিন্ন নতুন ফি এবং বিশেষ অনুমতি ফি প্রবর্তনের কথা জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সার্ভে-রেজিস্ট্রেশন ফি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর ও ভ্যাটের হারও বেড়েছে। রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহৃত প্লেট, প্রপেলার, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম কোথাও ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সড়কপথের উন্নয়নের ফলে লঞ্চে যাত্রী কমে যাওয়ার কারণে মালিকরা আগে থেকেই আর্থিক সংকটে আছেন। এই অবস্থায় লঞ্চ ব্যবসা সচল রাখতে যাত্রীভাড়া সমন্বয় অথবা জ্বালানি তেলের দাম কমানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাপ। চাকরির আরও তথ্য: চিঠিতে বলা হয়, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে বর্তমানে অনেক যাত্রী সড়কপথে যাতায়াত করছেন। চাকরির আরও তথ্য: ফলে লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

শেয়ার করুন