পাবনা-২ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনার সময় তীব্র সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে তিনি বলেন, এই বিলের মূল কাঠামোতে কোথাও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির ব্যবস্থা ঠিকমতো না রেখে শুধু সাইনবোর্ড বদলে ‘পুরোনো বোতলে নতুন মদ’ ঢাললে কোনো উদ্দেশ্যই পূরণ হবে না।
নাজিবুর রহমান মোমেন তার বক্তব্যে র্যাবের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জে যে ন্যক্কারজনক সাত খুনের ঘটনা ঘটেছিল, তার পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া র্যাবকে ‘কিলিং স্কোয়াড’ আখ্যা দিয়ে বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তিনি র্যাবকে ‘ক্যানসার’ আখ্যা দিয়ে আবারও বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি করেন।
সংসদ সদস্য আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। এছাড়া সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপও র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং গুম কমিশনও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল।
নাজিবুর রহমান মোমেনের অভিযোগ, এই নতুন বাহিনী এসআরবি-র কাছে র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি এবং দায়-দায়িত্ব সরাসরি হস্তান্তর করা হচ্ছে। তার মতে, র্যাবের নাম পরিবর্তন ছাড়া বাহিনীর কার্যপদ্ধতি বা কাঠামোর কোনো পরিবর্তনই ঘটছে না, যা কার্যত একটি নামমাত্র পরিবর্তন।





