গণতন্ত্রের শক্তির বিভেদ ফ্যাসিস্টদের পথ সুগম করতে পারে: তারেক রহমান

প্রকাশ:

গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টি হলে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তি পুনরায় উজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বিরোধী দলের ‘লংমার্চ’ কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লংমার্চ করে যদি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যেত, তবে সরকারই সবার আগে তা করতো। জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বঙ্গোপসাগর বা দেশীয় কোনো উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়নি। দেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ায় গ্যাস আমদানি ব্যাহত হয় এবং একটি এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) দুর্ঘটনার কারণে বিকল হয়ে অতিরিক্ত সংকট তৈরি করে। তবে সরকার বসে নেই এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাসহ নানা উদ্যোগের মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, প্রতিবারই দেশকে সংকট থেকে বের করে এনেছে। ইতিহাস সাক্ষী যে, দেশের প্রতিটি সংকটে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি হাল ধরে সফল হয়েছে। জিয়াউর রহমান দেশকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন, ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া নারী শিক্ষায় বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও বিএনপি দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে কাজ করেছিল।

ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার শুধু লুটপাট ও অর্থ পাচারই করেনি, খেলাপি ঋণের হিসাবেও জালিয়াতি করেছিল। ২০২৪ সালে তারা খেলাপি ঋণ দেখিয়েছিল মাত্র ১১ শতাংশ, কিন্তু বর্তমান সরকারের ফরেনসিক অডিটে দেখা গেছে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ছিল ৩৫.৫ শতাংশ। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে গত ৫ মাসে তা কমে ৩২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া, যারা দেশকে ঋণের ভারে জর্জরিত করে পালিয়েছেন, তাদের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা বর্তমান সরকার শোধ করছে। গত ৫ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২ হাজার ৪৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে সংসদ নেতা বলেন, vanished ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে পাখির মতো গুলি করে প্রায় ১৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বা অন্ধত্ব বরণ করেছেন। সুশাসন ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করা সবার পবিত্র কর্তব্য। তিনি সরকারি ও বিরোধী দলসহ সবাইকে মিলে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ভিন্নমত ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক, তবে এই ভিন্নমত যেন কোনোভাবেই শত্রুতার রূপ না নেয়।

দেশে বর্তমানে বাকস্বাধীনতা অবারিত হলেও তা যেন কোনোভাবেই শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী সকল রাজনৈতিক দল ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। রাজনীতি থেকে গালাগালির সংস্কৃতি পরিহার করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, পারিবারিক পরিবেশে আমরা যেসব শব্দ ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না, জনপ্রতিনিধি হয়ে জনপরিসরে তা পরিহার করা উচিত। একটি রুচিশীল সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

শেয়ার করুন