নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেছেন। বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে পদোন্নতি ও টাকা নেওয়ার বিষয়টি কীভাবে সম্ভব। ‘অভিযোগ বনাম বাস্তবতা: এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদকে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রকৃত তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর অসারতা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে আসিফ মাহমুদ জানান, তার বিরুদ্ধে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে ১১২ জনের চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব বাতিল করে। এটি তার ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না।
অন্য একটি অভিযোগে ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পছন্দের স্থানে পদায়নের বিনিময়ে প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। আসিফ মাহমুদ জানান, অভিযোগটি ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল করা হলেও পদোন্নতির আদেশ হয় ১১ মে। তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং এরপর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ফলে এই পদোন্নতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কোনো সুযোগই ছিল না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, পদোন্নতিতে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তৎকালীন দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান না করে কেন তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুদক কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং এই সংস্থাটি এখন রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাকে রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানো ও হয়রানি করার লক্ষ্যেই এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এছাড়া দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলা হলেও পরে ভুল স্বীকার করা হয়েছে, যা তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি এই অনুসন্ধানকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান।





