বেনজীর আমিরাতেই, দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক চাপ দিচ্ছে সরকার

প্রকাশ:

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সেন্ট লুসিয়ায় নয়, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের (ঢাকা-১৪) উত্থাপিত এক আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী জানান, বেনজীর আহমেদের ওপর নজরদারি রাখতে আমিরাত সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। সরকার কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় এই খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে বদ্ধপরিকর।

এর আগে সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম তার প্রস্তাবে বেনজীর আহমেদ সেন্ট লুসিয়া থেকে পালিয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই তথ্যের সংশোধন করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, সংসদ সদস্য সুশিক্ষিত এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তথ্যে কিছুটা ঘাটতি আছে। তিনি জানান, দূতাবাসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা এমন কোনো বিষয়ে অবগত নন। অর্থাৎ, তিনি আমিরাতেই রয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের দূতাবাস আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করেছে এবং সংস্থাগুলোকে তার ওপর নজর রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিচারের দীর্ঘ হাত দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রত্যেক সন্ত্রাসীকে টেনে-হিঁচড়ে ফিরিয়ে আনবে।

আমিরাতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সক্রিয় দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে প্রতিটি ঘটনার ভিত্তিতে বিশেষ বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম করছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয় কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছে যাতে বিশেষ বিবেচনায় তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

বেনজীর আহমেদকে ‘খুনি’ ও ‘জাতির দুশমন’ আখ্যা দিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, গত ১৫ বছর ধরে তিনি সাধারণ মানুষসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। তার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার আওতায় সেই অপরাধীদের প্রত্যেককে ধরে আনতে সফল হবে।

এ সময় বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হওয়া এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া কোনো বিরোধী দলীয় কর্মীকে সরকার কেবল একটি দলের প্রতিনিধি হিসেবে দেখে না। একইসঙ্গে গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্নেল জিয়া সিলেট অঞ্চলের এই নেতাকে গুম করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে। সরকার এই বিচার প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

শেয়ার করুন