ফরাসি ফুটবলার উসমান দেম্বেলে একসময় চোট, অনিয়মিত পারফরম্যান্স এবং মাঠের বাইরের জীবনযাপন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তবে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে রিমা এদবুশকে বিয়ে করার পর তার ব্যক্তিগত জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনের হাত ধরে তিনি ধীরে ধীরে মাঠে নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মজার ছলে বলছেন, ‘হে যুবক, বিয়ে করো।’
দেম্বেলের ঘনিষ্ঠজনদের মতে, সংসার জীবন, স্ত্রীর মানসিক সমর্থন এবং তাদের কন্যাসন্তানের আগমন তার মধ্যে দায়িত্ববোধ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে মাঠের বাইরে তিনি আগের চেয়ে অনেক শান্ত ও পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছেন। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রভাব মাঠের পারফরম্যান্সেও স্পষ্ট। চোট কাটিয়ে তিনি এখন ক্লাব ও জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
দেম্বেলের স্ত্রী রিমা এদবুশ প্যারিসে ফাইন আর্টসের শিক্ষার্থী ছিলেন। তারকা ফুটবলারের স্ত্রী হওয়ার পরও তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বিশ্বকাপের গ্যালারিতে হাজারো দর্শকের ভিড়েও তাকে খুব কমই আলোচনার কেন্দ্রে দেখা গেছে। ক্যামেরার সামনে আসার চেয়ে তিনি স্বামীর জন্য নীরবে দোয়া করাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। ভোগ সাময়িকীকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রিমা জানান, ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামে যাওয়ার আগে তিনি নিজের ও মেয়ের প্রস্তুতির পাশাপাশি দেম্বেলের জন্য দোয়া করেন। তার বিশ্বাস, প্রার্থনাই একজন মানুষকে মানসিক প্রশান্তি ও স্থিরতা এনে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি ব্যক্তিগত জীবনের চাকচিক্যের চেয়ে নান্দনিকতা ও সংযম তুলে ধরতেই পছন্দ করেন।
অবশ্যই এই সাফল্যের কৃতিত্ব শুধু বিয়ে বা স্ত্রীর এককভাবে নয়; বরং কঠোর পরিশ্রম ও নিজের অধ্যবসায়ই ছিল তার মূল চালিকাশক্তি। তবে জীবনের কঠিন সময়ে একজন সহানুভূতিশীল জীবনসঙ্গিনীর দোয়া, ভালোবাসা ও মানসিক সমর্থন যে একজন মানুষকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগাতে পারে, দেম্বেলে-রিমার গল্পকে অনেকে তার একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবেই দেখেন।





