গ্র্যামি পুরস্কার কেন এখনো অধরা বিটিএসের কাছে

প্রকাশ:

বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয় দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যান্ড বিটিএস ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো গ্র্যামিতে মনোনয়ন পেয়েছিল। তবে এরপর একাধিকবার সুযোগ এলেও এখন পর্যন্ত কোনো গ্র্যামি পুরস্কার নিজেদের ঝুলিতে ভরতে পারেনি এই গ্রুপটি। বিটিএস কেন গ্র্যামি জিততে পারছে না, তা নিয়ে বিটিএস আর্মির মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও হতাশা রয়েছে। প্রতিটি গ্র্যামি আসরেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে।

সাংস্কৃতিক সমালোচকদের মতে, বয় ব্যান্ডগুলোর জনপ্রিয়তা মূলত ‘ফ্যান-ড্রিভেন’ বা ভক্তদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের শিল্পমূল্য নিয়ে একধরনের সন্দেহ তৈরি হয়, যা গ্র্যামির মতো পুরস্কারের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বয় ব্যান্ডগুলোকে প্রায়ই ‘বাণিজ্যিকভাবে নির্মিত’ হিসেবে দেখা হয়। একই সঙ্গে তাদের ভক্তদের বয়স ও লিঙ্গ নিয়ে একধরনের স্টেরিওটাইপ কাজ করে।

বিটিএসের ক্ষেত্রে কিছু বাস্তব কারণও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংগীত বাজারে তাদের তুলনামূলক দেরিতে বড় সাফল্য পাওয়া এবং গ্র্যামির ভোটারদের মধ্যে তাদের উপস্থিতি সীমিত থাকা। সমালোচকদের মতে, গ্র্যামির ‘বেস্ট পপ ডুয়ো/গ্রুপ পারফরম্যান্স’-এর মতো বিভাগগুলোতে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন, যেখানে সহযোগিতামূলক পশ্চিমা পপ গানগুলো প্রায়ই বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, বিটিএসের বিষয়টি কেবল জনপ্রিয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং সংগীতশিল্পের মূল্যায়নকাঠামো, সংস্কৃতিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং পুরস্কারব্যবস্থার জটিল সমীকরণই এই বাস্তবতার পেছনে কাজ করছে।

বয় ব্যান্ডগুলোর গ্র্যামি না পাওয়ার বিষয়টি কেবল বিটিএসের ক্ষেত্রেই ঘটেনি। প্রায় ১২ বছর আগে ব্রিটিশ ব্যান্ড ওয়ান ডিরেকশনের ভক্তদের মধ্যেও একই ধরনের হতাশা দেখা গিয়েছিল, যখন বিপুল জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও ব্যান্ডটি গ্র্যামির মনোনয়নই পায়নি। তখন ব্যান্ডটি চারটি অ্যালবাম নিয়েই বিলবোর্ড ২০০ (২০০) চার্টে ১ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছিল। ২০১৪ সালে গ্র্যামি কর্তৃপক্ষকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা জানায়, মনোনয়নপ্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং এটি কেবল জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে না। একই সঙ্গে তারা জানায়, তারা বয় ব্যান্ডদের উপেক্ষা করে না, যার উদাহরণ হিসেবে ব্যাকস্ট্রিট বয়েজ ও এন সিঙ্কের একাধিক মনোনয়নের কথা উল্লেখ করে। তবে বাস্তবতা হলো, নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এই ব্যান্ডগুলো এবং নিউ কিডস অন দ্য ব্লকের মতো ব্যান্ডগুলোও মনোনয়নের কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত গ্র্যামি জিততে পারেনি।

ইতিহাসে ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়, তবে তা খুবই সামান্য। আইরিশ রক ব্যান্ড ইউ টু এখন পর্যন্ত ৪৬টি মনোনয়ন ও ২২টি পুরস্কার জিতেছে এবং দুইবার ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ জিতে ইতিহাস গড়েছে। সব মিলিয়ে বিটিএসসহ বিভিন্ন প্রজন্মের বয় ব্যান্ডের গ্র্যামি না পাওয়ার এই ধারাবাহিকতা সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে বারবার এই প্রশ্নই তুলছে যে, গ্র্যামির ভেতরে কি এমন কোনো অদৃশ্য সীমারেখা আছে, যা বয় ব্যান্ডদের জন্য পুরস্কার জয়কে কঠিন করে তোলে?

তাঁরা জানতে চেয়েছিলেন—বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও কেন এই ব্যান্ড কখনো গ্র্যামির মনোনয়নও পায়নি।এরও আগে ১৯৯০-এর দশকে ব্যাকস্ট্রিট বয়েজ ও এন সিঙ্কের মতো ব্যান্ডগুলো একাধিকবার মনোনয়নের কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত গ্র্যামি জিততে পারেনি।

এমনকি ১৯৮০–এর দশকের জনপ্রিয় বয় ব্যান্ড নিউ কিডস অন দ্য ব্লকও এ তালিকার বাইরে নয়।এই ধারাবাহিকতা একধরনের প্রশ্ন তুলেছে—গ্র্যামির ভেতরে কি এমন কোনো অদৃশ্য সীমারেখা আছে, যা বয় ব্যান্ডদের জন্য পুরস্কার পাওয়াকে কঠিন করে তোলে?২০১৪ সালে এক ভক্ত গ্র্যামির ওয়েবসাইটে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন—বিশ্বের অন্যতম সফল ব্যান্ড হওয়া সত্ত্বেও কেন ওয়ান ডিরেকশন কোনো মনোনয়ন পাচ্ছে না?

শেয়ার করুন