বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩১তম ব্যাচের নিয়মিত উপসচিব পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিতর্কিতভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি)। বিশেষ করে ‘এইচ টি ইমাম ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত এসব কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার চাপে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মতামত চেয়ে তড়িঘড়ি করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব জেতি প্রু স্বাক্ষরিত গত ১০ আগস্ট পিএসসি সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে ৩০তম ব্যাচের চারজন এবং ৩১তম ব্যাচের ১২ জন কর্মকর্তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এই ১৬ জন কর্মকর্তার নিয়োগের ক্ষেত্রে পিএসসির সুপারিশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছিল কি না। এই বিষয়ে মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যে মতামত প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, চিঠি পাঠানোর আগেই পিএসসিকে ইতিবাচক মতামত তৈরি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যার ভিত্তিতে পিএসসি দ্রুত ইতিবাচক সাড়া পাঠায়। এর ওপর ভিত্তি করেই এসএসবি এখন পদোন্নতির সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে দলীয় কর্মীদের ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় এসআরও জারি করে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা প্রার্থীদের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়। তৎকালীন সিনিয়র সচিব আবদুস সোবহান সিকদার ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রথম গেজেট প্রকাশের ছয় মাস পর, ২০১৩ সালের ১২ জুন এই কর্মকর্তাদের নিয়োগের সুপারিশ করে দ্বিতীয় গেজেট প্রকাশ করেন। নিয়োগপ্রাপ্ত ২৩ জনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ১১ জন, পুলিশ ক্যাডারে ছয়জন, ইকোনমিক ক্যাডারে তিনজন, তথ্য ক্যাডারে একজন, পরিবার পরিকল্পনায় একজন এবং কর ক্যাডারে একজন রয়েছেন। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৩০তম ব্যাচের নিয়মিত উপসচিব পদোন্নতিতে এসআরও’র মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মেহেরপুর জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু নারায়ণগঞ্জে ৪২ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ওএসডি হয়েছিলেন। গাজীপুরের ইউএনও থাকাকালে আশ্রয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে বদলি হয়েছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এস এম সাদিক তানভীর। এছাড়া কক্সবাজারের পেকুয়ায় ত্রাণ চাল আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন একই বিভাগের সাঈকা সাহাদাত। তালিকায় থাকা অন্যদের মধ্যে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ কে এম হেদায়েতুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব সোহেল রানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আকতারুন নেছা, মোহাম্মদ রেজাউল করিম, বেগম শিরিন আক্তার, মোছা. রওনক জাহান এবং পাবনা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা সুলতানা উল্লেখযোগ্য।
গত ১০ আগস্ট পিএসসি’র সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব জেতি প্রু স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারর ৩০তম ব্যাচের সাথে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের ২৩ আক্টোবর ০৫.০০.০০০০.১৪৭.৩০.০১৩.১১-২৪৯ সংখ্যক প্রজ্ঞাপনমূলে চারজন এবং বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৩১তম ব্যাচের সাথে ২০১৩ সালের ১২ জুন ০৫.০০.০০০০.১৪৭.৩১.০১০.১২-১৩১ সংখ্যক প্রজ্ঞাপনমূলে ১২ জন (প্রশাসন ক্যাডারের ১০ জন এবং পূর্বের ইকনমিক ক্যাডার হতে প্রশাসন ক্যাডারে মার্জকৃত ২ জন) নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন কর্তৃক সুপারিশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছিল কি না- এ বিষয়ে ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে মতামত প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
একইভাবে নিয়োগ পাওয়া আকতারুন নেছা ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ৩১তম বিসিএস অল ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম নারী সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই কমিটি ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এই কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। তার স্বামীও একই ব্যাচের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের ঘনিষ্ঠ নাহিদ হাসান আছেন আইএমইডিতে।





