১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ-অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় আমাদের নেই: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ:

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধ, নিরাপত্তা ইস্যু, ভূখণ্ড দখল বা শোষণের বিষয়ে আগ্রহী নয়। দেশের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশই বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈশ্বিক সংকট ও পরাশক্তির দ্বন্দ্ব

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, তিনি অবাক হয়েছেন যে এবারের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি উঠে আসেনি। বর্তমান বৈশ্বিক সংকট শুধু চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তার সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এর প্রভাব সবাইকেই ভোগ করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সমস্যা সহজে শেষ হওয়ার নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এর পেছনে রয়েছে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা এবং ‘আমি চাই না তুমি ধনী হও’—এমন একটি নেতিবাচক মানসিকতা। ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে দুই দেশ প্রায় একই অবস্থানে থাকলেও চীন কৃষি থেকে উৎপাদনমুখী শিল্পে মনোযোগ দিয়ে অনেক এগিয়ে গেছে, যেখানে সেবা খাতে মনোযোগ দেয়ায় ভারত প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল। ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনা করে তিনি বলেন, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে দুই দেশ প্রায় একই অবস্থানে ছিল। দিন শেষে এসব সংকটের ভুক্তভোগী হতে হয় সাধারণ মানুষকেই। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সংকটের কথাও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী।

বাংলাদেশের অবস্থান ও জ্বালানি সংকট

  • বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই—এমন যুদ্ধের প্রভাবেও দেশকে অধিক মূল্যে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে।
  • বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না। চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় সহযোগিতা করবে—এটিই রাষ্ট্রের প্রত্যাশা।
  • বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রধান চিন্তা হলো খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতায় সময় ব্যয় করার সুযোগ নেই।
  • তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতা ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে গতিশীল রাখতে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি।

সম্মেলন পরিস্থিতি

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর আয়োজনে ‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, ব্যবসায়ী এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন, যা আগামী ৫ অক্টোবর শেষ হবে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের মতো ভোক্তা পর্যায়ের দেশগুলোর ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা কাটিয়ে উঠতে আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সবসময় বিশ্ব সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শান্তি রক্ষাই তাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি।

শেয়ার করুন