নিজের কথা বলাকে কেন্দ্র করে বারবার হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে নীরব থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এখন থেকে আর কোনো কথা বলবেন না, বরং পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা পর্যবেক্ষণ করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে ‘অগ্নিঝরা জুলাই ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ারও বক্তব্য রাখেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। এ ঘটনার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন সারজিস। এই হামলার কথা উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাকেও হামলার শিকার হতে হয়েছে এবং হামলাকারীরা তার কথা বলার বিষয়টিকে হামলার জাস্টিফিকেশন হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তিনি আরও বলেন, তারা এখন পুরো বাংলাদেশে দেখবেন সরকার বা প্রতিপক্ষ কতটুকু বাড়তে পারে এবং এর মাত্রা কতদূর যায়।
এর আগে গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিলে বিএনপি ও ছাত্রদল পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে, যার ফলে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। পুলিশি বাধার মুখে কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে প্রতিবাদ মিছিল করতে ব্যর্থ হন এবং বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেন। নাসীরুদ্দীন জানান, পুলিশ সুপার তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে আজই এফআইআরের সংশোধনী কপি পাওয়া যাবে।
দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে দাবি করে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ করে হবিগঞ্জে হামলায় আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আলিফ কখনো মারামারি করেনি, তার বাবা অসুস্থ এবং মা প্রতিবন্ধী। তিনি তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, আলিফের চোখ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়, তবে জনগণ প্রতিরোধের পথে হাঁটবে। তিনি অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে হামলা হয়েছিল, এখন একইভাবে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকার সংস্কার বা গণতান্ত্রিক পরিবর্তন চায় না এবং বিরোধী দলকে দমনের পুরোনো কায়দা ব্যবহার করছে। তবে গণভোট, সংস্কার এবং জনগণের অধিকারের পক্ষে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।





