লালমনিরহাটে কাঁচা সড়কের বেহাল দশা, চরম ভোগান্তিতে ১০ হাজার মানুষ

প্রকাশ:

লালমনিরহাট সদর উপজেলার প্রধান কাঁচা সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ধরলা নদীর পূর্ব পাশের বেরিবাঁধ সংলগ্ন বোয়ালমারী থেকে খারুয়া বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ এই সড়কটির কঙ্কালসার অবস্থার কারণে স্থানীয় পাঁচ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে পাশের নিচু জমিতে চলে গেছে। এতে বিপজ্জনক খাদের সৃষ্টি হওয়ায় মোটরসাইকেল, ভ্যান ও অটো-রিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটির বেহাল দশার কারণে অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য হাটে তোলা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, এর আগেও সড়কটিতে সংস্কার কাজ করা হয়েছিল, কিন্তু তা ছিল নামমাত্র। বালুমাটির কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ধসে যায়। ২০১৭ সালের বন্যায় সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত করেছিল। কিন্তু স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর বর্ষাকালে তাদের এই ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সড়কটিতে বালুর পরিমাণ বেশি থাকায় বর্ষায় তা ধসে যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত বরাদ্দ দিয়ে এর স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়। সড়কটির দুই পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ করে পাকাকরণ করলেই কেবল জনভোগান্তি দূর করা সম্ভব। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল আমিন জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় গাইডওয়াল নির্মাণসহ সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন