ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিশ্বকাপের স্বপ্ন চুরমার করে ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন। ম্যাচের শুরু থেকেই ফরাসিরা স্পেনের দুর্দান্ত কৌশলের সামনে অসহায় ছিল। প্রথমার্ধে মাঝমাঠের লড়াই চললেও ইয়ামালের গতিবিধি ফ্রান্সের ডিফেন্ডারদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক পর্যায়ে ডি-বক্সের ভেতর ইয়ামালের সঙ্গে লুকাস দিনিয়ের সংঘর্ষে পেনাল্টি পায় স্পেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিকেল ওইয়ারজাবাল নিখুঁত শটে গোল করেন, যা বিশ্বকাপে তার পঞ্চম গোল। এ নিয়ে বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা হলো ৫। এই গোলের পর খেলার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্পেনের হাতে চলে যায়।
ম্যাচ শেষে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে মাঠের ঘাসের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। পুরো ফরাসি দলই ছিল বিধ্বস্ত। ফ্রান্সের সাবেক অধিনায়ক প্যাট্রিক ভিয়েরা আইটিভিকে জানান, পুরো দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল এবং স্প্যানিশ দলকে তারা অতিরিক্ত ভয় পাচ্ছিল। মাঠের খেলায় নেতৃত্ব দেয়ার মতো ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের অভাব ছিল ফরাসিদের মধ্যে। এমবাপ্পে বলের সন্ধানে ডানে-বামে ঘুরে বেড়ালেও সফল হতে পারেননি। ফরাসি আক্রমণভাগের ওলিসে এবং দেম্বেলের পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইলিয়াম সালিবা পিঠের ব্যথার কারণে মাঠ ছাড়লে ফ্রান্সের রক্ষণভাগ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। স্পেনের হয়ে গোল করার ক্ষেত্রে পেদ্রো পোরোর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য, সেই সঙ্গে কুকুরেয়ার পাস এবং বিল্ডআপ ছিল দেখার মতো। ফরাসি দৈনিক লেকিপের মতে, প্রতিটি ক্ষেত্রে ফ্রান্স কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল এবং স্পেনের কাছে এই হার যুক্তিযুক্ত। ২০২৪ ইউরোর পর আবারও স্পেনের আধিপত্যের কাছে হার মানল ফ্রান্স। ফরাসি বাস্তিল দিবসে এই পরাজয় তাদের তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিল। ম্যাচ শেষ হওয়ার সময় গ্যালারিতে স্প্যানিশ সমর্থকদের উল্লাস আর ফরাসি শিবিরে কান্নার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।


