বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেক সময় ‘সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয়’ লড়াই হিসেবে অভিহিত করা হয়। সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত খেলোয়াড়দের মাঠে নামানো কঠিন হলেও, ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ এবং ব্যক্তিগত রেকর্ডের ক্ষেত্রে এই ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। মিয়ামি স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম এই ম্যাচটিকে প্রীতি ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না। ১৪ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাওয়া এই কোচ ম্যাচটি জিতে মাথা উঁচু করে ফিরতে চান। তিনি জানান, ফ্রান্সের জার্সির মর্যাদা এবং সমর্থকদের জন্য তারা জিততে মরিয়া। ব্যক্তিগত মাইলফলকের কথা মাথায় রেখে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে শুরুর একাদশে রাখা হবে, তবে দলের অন্য রিজার্ভ খেলোয়াড়দেরও সুযোগ দেবেন তিনি। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশমের অধীনে ফ্রান্স ১৮৪ ম্যাচে ১২০ জয় পেয়েছে এবং ইউরো ও নেশন্স লীগে রানার্সআপ হয়েছে।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল সরাসরি জানিয়েছেন, সেমিফাইনালে হারের পর কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচটি খেলতে আগ্রহী নয়। তবে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে তারা মাঠে নামবেন। নিয়মিত তারকাদের বিশ্রামে রেখে বেঞ্চের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ম্যাচটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, কারণ জয় পেলে ১৯৬৬ সালের পর এটিই হবে থ্রি লায়ন্সদের বড় সাফল্য।
১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ছিল না। ১৯৫৪ সাল থেকে প্রতিটি আসরেই এটি নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তবে ১৯৫০ সালে গ্রুপ পদ্ধতিতে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হওয়ায় এই ম্যাচটি হয়নি। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ছয়বার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলেছে জার্মানি, যারা জিতেছে চারবার। ফ্রান্স চারবার এই ম্যাচ খেলেছে। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে জ্যঁ ফন্তেইন এক আসরে রেকর্ড ১৩ গোল করেছিলেন, যার মধ্যে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে তিনি করেছিলেন ৪ গোল।
বর্তমান সময়ে এই ম্যাচের বাণিজ্যিক মূল্য অনেক বেশি। ফিফা ২০২২ সালের বিশ্বকাপে প্রাইজমানি ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দল ৫০ মিলিয়ন ডলার পেলেও, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৯ মিলিয়ন ডলার এবং চতুর্থ হওয়া দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার। ফলে ফেডারেশনগুলোর কাছেও আর্থিকভাবে এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি।
ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ১৪ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন দিদিয়ের দেশম। ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ শেষটায় মাথা উঁচু করেই বাড়ি ফিরতে চান। বলেছেন, এটা কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়। নিজেদের জন্য, ফ্রান্সের জার্সির মর্যাদার জন্য এবং সমর্থকদের জন্যও ম্যাচটি জিততে চান দেশম। এই ম্যাচে রিজার্ভ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেবেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত মাইলফলকের কথা ভেবে শুরুতেই রাখা হবে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। ২০১২ সালে ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হন দেশম। তার অধীনে ১৮৪ ম্যাচে ১২০ জয় কুড়ায় ফ্রান্স। বিশ্বকাপ ছাড়াও জিতেছেন উয়েফা নেশন্স লীগ। তাছাড়া দেশমের অধীনে ২০১৬ ইউরো ও ২০২৫ নেশন্স লীগে রানার্সআপ হয় ফ্রান্স।
তালিকায় দুই নম্বরে থাকা ফ্রান্স এর আগে ১৯৫৮, ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে সেমিফাইনালে উঠে হেরে যায়। এর মধ্যে ১৯৫৮ সালের হারটি ছিল বেশ হৃদয়বিদারক। সেবার জ্যাঁ ফন্তেইন, রেমো কোপা, রজে পিয়াঁতোনি, জঁ ভাসাঁদের নিয়ে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত। আসরে সর্বোচ্চ ২৩ গোল করেছিল দলটি। ফন্তেইন করেন ১৩ গোল। যা এখনো এক আসরে সর্বাধিক ব্যক্তিগত গোলের রেকর্ড। মজার ব্যাপার হলো, জার্মানির বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে একাই ৪ গোল করেছিলেন ফন্তেইন।



