হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের দাবি আইআরজিসির, প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ:

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালির একটি মাইন পাতা নৌপথ অতিক্রমের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স ও বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা একটি রুট দিয়ে যাওয়ার সময় এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে আইআরজিসির এই দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা করার পর থেকে ওয়াশিংটন ইরানে টানা সপ্তম দিনের মতো সামরিক হামলা অব্যাহত রেখেছে। সেন্টকমের ভাষ্যমতে, মার্কিন কমান্ডার ইন চিফের নির্দেশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই আক্রমণগুলো চালানো হচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদ, কেশম দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির পার্শ্ববর্তী বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শুক্রবার দাবি করেছে যে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় থাকা একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি অস্বীকার করেছে। এর আগে কুয়েতি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইরানের ড্রোন হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন এবং একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ কয়েকটি পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সিবিএস নিউজের সূত্র অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে জর্ডানের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার অভিযোগও অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। তেহরান দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেতু, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন জোর দিয়ে বলেছে, তাদের আক্রমণ কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ ছিল। ইরানের হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। বিবিসি ভেরিফাই ও বিবিসি ফারসি গারিভেহ সেতুতে হামলার ভিডিও যাচাই করেছে, যেখানে রাতের বেলা আগুনের গোলা এবং দিনের আলোয় সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ার পর থেকে এই টানা হামলা ও উত্তেজনা হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শেয়ার করুন