নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল যেন এক ভিন্ন রূপ নিয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা এই ম্যাচটিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘লা মাসিয়া ডার্বি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। ১৭০২ সালে প্রতিষ্ঠিত কাতালান ফার্মহাউস ‘লা মাসিয়া দে কান প্লানেস’ থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়রাই এখন বিশ্বমঞ্চের এই মহাযুদ্ধে মুখোমুখি। এবারের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়দের হিসেবে দেখা যায়, বার্সেলোনার এই বিখ্যাত ফুটবল একাডেমি থেকে আসা খেলোয়াড়দের আধিপত্য। স্পেন দলে রয়েছেন লামিনে ইয়ামাল, ভিক্টর মুনিয়োজ, পাউ কুবারসি, গাভি, দানি ওলমো, এরিক গার্সিয়া, অ্যালেক্স গ্রিমালদো এবং মার্ক কুকুরেয়া। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা দলে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে আছেন লিওনেল মেসি।
যদিও মুনিয়োজ, কুকুরেয়া, গ্রিমালদো এবং মেসি বর্তমানে ভিন্ন ক্লাবে খেলছেন, তবুও তাদের সবার ফুটবলীয় শিকড় প্রোথিত রয়েছে লা মাসিয়াতে। এই শিকড়ই স্পেনকে ১৬ বছর আগের ২০১০ সালের সেই স্বর্ণালী স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন চ্যাম্পিয়ন স্পেনের দলে লা মাসিয়ার ৯ জন গ্র্যাজুয়েট ছিলেন। এবারের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে যে, আর্জেন্টিনা বা স্পেন যে দলই জিতুক না কেন, শেষ পর্যন্ত লা মাসিয়ার কোনো না কোনো সন্তানের হাতেই উঠবে বিশ্বকাপের ট্রফি।
এই ফাইনালটি মূলত লা মাসিয়ার ইতিহাসের দুই অধ্যায়ের লড়াই। একদিকে লিওনেল মেসি, যিনি ১৩ বছর বয়সে লা মাসিয়ায় প্রবেশ করে ১৭ বছর বয়সে বের হয়েছিলেন। ২০২১ সালে বার্সা ছেড়ে যাওয়া মেসি এরপর এ নিয়ে দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবেন। অন্যদিকে স্পেন ও বার্সার তরুণ প্রজন্মের পতাকা ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের হাতে। মেসি বিশ্বকাপ ফাইনালে ৩৯ বছর বয়সে পেলে, ম্যারাডোনা, জিদান, রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের কাতারে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করছেন। নিউ জার্সির মাঠের এই লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে এক নীরব বিজয়ী—লা মাসিয়া, যেখান থেকে স্বপ্ন নিয়ে মেসি ও ইয়ামালের মতো তারকারা বাস্তবের ফুটবল বিশ্বে পা রেখেছেন।



