খাবারের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার দাবি, জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে ঝুঁকি

প্রকাশ:

দেশের অধিকাংশ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে বিস্কুট, চিপস, চানাচুর, কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত জুসের মতো অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। রঙিন মোড়কে মোড়ানো এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর চর্বির উপস্থিতি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম কার্যকর ও সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে ‘ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং’ (এফওপিএল) পদ্ধতিকে বিবেচনা করে। এই পদ্ধতিতে খাদ্যপণ্যের মোড়কের সামনের অংশে সহজ ভাষা বা প্রতীকের মাধ্যমে চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বির মতো স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে পুষ্টিগুণের তথ্য মোড়কের পেছনে ছোট ও জটিল সংখ্যায় লেখা থাকে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা কঠিন। বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, ৪৬ শতাংশ পণ্যে সম্পৃক্ত চর্বি এবং ৩৮ শতাংশ পণ্যে ট্রান্স ফ্যাট সংক্রান্ত তথ্যই উল্লেখ থাকে না। ২০২৫ সালের এক জরিপ বলছে, দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করেন। গবেষণাগারে পরীক্ষা করা ১০৫টি অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মধ্যে ৬৩ শতাংশে অতিরিক্ত সোডিয়াম এবং অনেক স্ন্যাকসে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি চিনি ও চর্বি পাওয়া গেছে।

বিশ্বের ৪৪টি দেশে বর্তমানে এফওপিএল ব্যবস্থা চালু রয়েছে। চিলি, মেক্সিকো ও উরুগুয়ের মতো দেশে এই পদ্ধতি চালুর পর অস্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চিলিতে চিনিযুক্ত খাদ্য ক্রয় ২০ শতাংশ এবং সোডিয়ামযুক্ত খাদ্য ক্রয় ১৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে, যেখানে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্যের মোড়কের সামনে কালো অষ্টভুজাকৃতির সতর্কবার্তা ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি জনমত গ্রহণের জন্য এই খসড়া প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তিনি বলেন, স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকলে ভোক্তা সহজেই অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলতে পারবেন, যা অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে। ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, এফওপিএল ভোক্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করে এবং বিশেষ করে শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ কমাতে অভিভাবকদের সহায়তা করে। তবে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও শিল্পখাতের চাপের কারণে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

শেয়ার করুন