২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল পুরো দেশ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও তৎকালীন তথ্য অনুযায়ী, সেই দিনের সহিংসতায় সাংবাদিকসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় দেড় হাজার মানুষ আহত হন।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শাটডাউন কর্মসূচিতে অংশ নিলে কোটা সংস্কার আন্দোলনটি ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। দিনভর রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, বাড্ডা, নীলক্ষেত ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একই চিত্র দেখা যায় দেশের বিভিন্ন জেলাতেও।
রামপুরায় অবস্থিত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনে অগ্নিসংযোগের ফলে সম্প্রচার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া বিভিন্ন পুলিশ বক্স, থানা, টোল প্লাজা ও সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে এবং ঢাকায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এছাড়া রাত ৯টার পর থেকে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং রেল যোগাযোগও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত হয়।
তৎকালীন সরকার এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুললেও, আন্দোলনের সমন্বয়করা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বলপ্রয়োগের কারণেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেন। সরকার একই দিন আলোচনার আগ্রহ দেখালেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এর পরদিন গায়েবানা জানাজা ও নতুন করে শাটডাউন পালনের ডাক দেওয়া হয়। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধারাবাহিক সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে এক নতুন মোড় নিয়েছিল।




