২০২৬ বিশ্বকাপে টাকার খেলায় কারা লাভবান আর কারা ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ:

মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এর অর্থনীতি। ৪৮ দলের এই বর্ধিত আসর ফিফা, স্পন্সর, সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান এবং ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রেতাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সাফল্য বয়ে আনলেও, সব পক্ষ সমানভাবে লাভবান হয়নি। বিবিসির এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফিফার আয় ছিল ৭.৬ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২৬ বিশ্বকাপে দল ও ম্যাচ সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির আয়ের প্রধান উৎস হলো সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং আতিথেয়তা খাত।

তবে এই আর্থিক সমীকরণে সবচেয়ে বড় চাপের মুখে পড়েছেন সাধারণ সমর্থকরা। ফাইনাল ম্যাচের সরকারি টিকিটের মূল্য ৩২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, আর পুনর্বিক্রয় বাজারে সেই টিকিটের দাম ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর নজির রয়েছে। এর সাথে ভ্রমণ, আবাসন ও যাতায়াত খরচ সাধারণ দর্শকদের জন্য ছিল অস্বাভাবিক রকমের বেশি।

বাণিজ্যিক দিক থেকে বড় সুবিধাভোগী হয়েছে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান, স্পন্সর এবং জার্সি ও স্মারকপণ্য বিক্রেতারা। নাইকির তথ্যমতে, তাদের জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি ২০২২ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এছাড়া অ্যাডিডাসের ক্ষেত্রে মেক্সিকোর জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রির রেকর্ড গড়েছে। অন্যদিকে, বেটিং কোম্পানিগুলোর জন্য এই বিশ্বকাপটি ছিল বড় জয়ের সুযোগ। বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপে বাজির মোট পরিমাণ ৫ হাজার কোটি বা ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

তবে আশানুরূপ অর্থনৈতিক সুফল পায়নি আয়োজক শহরগুলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটক সমাগম ও হোটেল বুকিং প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক লাভ সীমিত থেকেছে। অনেক হোটেল মালিকও তাদের প্রত্যাশিত ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন