প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইকুয়েডরের কুখ্যাত অপরাধী চক্র ‘লস চোনেরোস’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নৌযান ডুবিয়ে দিয়েছে। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি এ ধরনের তৃতীয় নৌযান ধ্বংসের ঘটনা। গত বছর থেকে মাদক পাচারের সন্দেহে বিভিন্ন নৌযানে মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে অবৈধ মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি ভাসমান জ্বালানি সরবরাহকারী নৌযান চিহ্নিত করে তারা সফলভাবে আটক করে। মার্কিন বাহিনীর প্রকাশ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার ও সামরিক সদস্যদের বহনকারী নৌযান সন্দেহভাজন যানটিকে ঘিরে ফেলে এবং পরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
অভিযানের সময় নৌযানটিতে থাকা কয়েকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের ইকুয়েডর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে কতজন সদস্যকে হস্তান্তর করা হয়েছে, সেই সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ইকুয়েডরের নৌবাহিনী শুক্রবার জানিয়েছে, তারা মার্কিন অভিযানে সহায়তা করেছে এবং ‘কনকুইস্তা-২’ ও ‘ওএম-২’ নামে চিহ্নিত দুটি নৌযান থেকে মোট ২৮ জন ক্রু সদস্যকে গ্রহণ করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, লস চোনেরোস চক্রটির সঙ্গে মেক্সিকোর সিনালোয়া কার্টেলের যোগাযোগ রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন লক্ষ্যবস্তু করা এসব নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার চূড়ান্ত কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ করেনি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত জুলাই মাসে অভিযোগ করেছিল যে, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মার্কিন হামলায় অন্তত আটজন নিখোঁজ হয়েছেন, যদিও ওয়াশিংটন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্লেখ্য, মার্চ মাসে ইকুয়েডর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ জোটে যোগ দেয়, যার লক্ষ্য এই অঞ্চলে মাদক পাচার রোধ করা। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।





