প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫২ এএম। ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ এলাকায় খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত এই স্থাপনাটি মাটির গভীরে তৈরি দুটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স নিয়ে গঠিত।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই সংঘাত ‘ছোটখাটো বিষয়’। এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ভ্যান্সের মন্তব্য প্রসঙ্গে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, অনেকেই এটিকে যুদ্ধ বলেন না। আমি এটিকে সামরিক সংঘাত বলি, কারণ এটি আমাদের জন্য কোনো বড় বিষয় নয়। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও একই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরান বর্তমানে ব্যাপক সামরিক চাপের মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি প্রয়োজনে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি—এই দুই কৌশল একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সংঘাত শুরুর পর থেকে ট্রাম্প বেশ কয়েকবার আলোচনার অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে শেষ মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি থেকেও সরে এসেছেন।
কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশেষজ্ঞ অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন একই সঙ্গে দুটি বিষয় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে—প্রথমত, ইরানের ওপর বড় ধরনের বোমাবর্ষণে ফিরে যাওয়া এবং দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানকে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া। মিলার বলেন, হোয়াইট হাউস বড় কোনো যুদ্ধ চায় না, আবার বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার ধারণাও তৈরি করতে চায় না। তারা যে কৌশল গ্রহণ করেছে, তাতে এই দুটিই এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।





