নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক ঢলের পর দেশটির বিভিন্ন দুর্গত এলাকা থেকে শুক্রবার ৫৮ জনকে উদ্ধার করেছে নেপালি সেনাবাহিনী। মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাতটি সামরিক ও ছয়টি বেসামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আটকে থাকা দুই শ্রমিক রয়েছেন, যাদের অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর তাদের আকাশপথে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। একই স্থানে উদ্ধারকারীরা একটি মরদেহও উদ্ধার করেছেন এবং টানেলের ভেতরে এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
লাংটাং জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলেও উদ্ধারকারী দল প্রবেশ করে দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এছাড়া চিলিমে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতরে প্রায় ১০০ মিটার অগ্রসর হয়েছেন। ত্রিশুলি-৩বি ও আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলেও উদ্ধারকাজ চলছে; ত্রিশুলি-৩এ-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রবেশপথের প্রায় ৭০০ মিটার এলাকা থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়েছে। উদ্ধারকারীরা ভেলা, নৌকা এবং পানি পাম্প করার যন্ত্র ব্যবহার করে এই জটিল অভিযান পরিচালনা করছেন।
যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে তাদি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য নেপালি সেনাবাহিনীর একটি প্রকৌশল দল দেবীঘাট এলাকায় কাজ করছে। বর্তমানে দেশটির বন্যাকবলিত এলাকায় ৯ হাজার ৩০০-এর বেশি সেনাসদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। তারা জরুরি চিকিৎসাসেবা, রাস্তাঘাট চালু করা এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল দিচ্ছেন।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসের পর এই আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। এতে ত্রিশুলি উপত্যকার জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে চলমান এই অভিযান নিখোঁজদের স্বজনদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।





