ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার অংশীদারিত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনায় নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে মরক্কোতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ফিফার শীর্ষ নির্বাহীদের সমর্থন পাওয়ার পর তিনি সভাপতির পদে বহাল থাকছেন। ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো বুধবার রাবাতে অবস্থিত ফিফার আফ্রিকা কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যদের জরুরি বৈঠকে ডাকেন। বৈঠক শেষ হওয়ার চার ঘণ্টা পরই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
এর আগে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা জানায়, তারা ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারিয়েছে। উয়েফা ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রস্তাবকে অস্বচ্ছ এবং গোপন কক্ষের চুক্তি বলে আখ্যা দেয়। ফিফার ভেতর থেকেও সমালোচনা এসেছে, যার মধ্যে ছিলেন ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম। মঙ্গলবার কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ স্মারকে তিনি পুরো পরিস্থিতিকে দুঃখজনক এবং নিন্দনীয় ঘটনাপ্রবাহ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে বুধবারের বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে গ্রাফস্ট্রম ও ব্যবস্থাপনা বোর্ড ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ইনফান্তিনো ও গ্রাফস্ট্রম ফিফার সহ-সভাপতি, কাউন্সিল এবং ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়ে ভবিষ্যতে এমন ভুল আর না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বৈঠক শেষে দু’জনকে রাবাতে অনুষ্ঠিত উইমেন্স আফ্রিকা কাপ অব নেশনস-এর একটি ম্যাচ একসঙ্গে উপভোগ করতেও দেখা যায়।
ইনফান্তিনো আগে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)-এর মাধ্যমে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনায় সমর্থন দিলে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে ৪ কোটি ডলার দেয়া হবে। বুধবারের বৈঠকে ফিফা স্বীকার করেছে যে, এফএফই-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় ভুল ছিল এবং সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। গত ২৮ জুলাই দ্য টাইমস প্রথম এই পরিকল্পনার খবর প্রকাশ করে। ফিফা জানিয়েছে, সংস্থার সততা ও সুশাসন নিয়ে কোনো ধরনের আক্রমণ আর সহ্য করা হবে না এবং সুনাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দ্য টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মরক্কোর সমর্থনের বিনিময়ে ইনফান্তিনো দেশটিকে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফিফা এই দাবিকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনিসহ বিভিন্ন মহল থেকে ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারানোর কথা জানানো হয়েছে। লুইস ফিগোসহ বেশ কয়েকজন ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০২৭ সালের মার্চে মরক্কোতে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জিততে হলে ২১১ সদস্যের মধ্যে কমপক্ষে ১০৬ ভোট পেতে হবে। ওয়েলসসহ কয়েকটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। ফিফা জোর দিয়ে বলেছে, ভুল স্বীকার করলেও যা করা হয়েছে তা ফিফার বিধিমালার সম্পূর্ণ অনুসরণ করেই করা হয়েছে এবং এই বৈঠকের ফলাফল সংস্থার সুশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে।





