বেরোবিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় উত্তেজনা

প্রকাশ:

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সোমবার সন্ধ্যায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শুরু হওয়া এই ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির মতো ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত উভয় পক্ষ ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থানে ছিল, যার মধ্যে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা মূল ফটকে এবং ছাত্রদলের কর্মীরা পার্কের মোড় মসজিদের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ছাত্রশিবিরের শাখা আয়োজিত ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই প্রদর্শনীতে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে কয়েকজনের ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়ে ওই ব্যানার সরানোর দাবি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষই লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, ছাত্রদল কর্মীরা তাদের প্রদর্শিত ছবিগুলোকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে সরিয়ে ফেলতে বলে। তিনি বলেন, তারা ছাত্রদলকে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিলেও, কোনো আলোচনা ছাড়াই তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। শিবলী সাদিক আরও দাবি করেন, ছাত্রদল কর্মীরা কারমাইকেল কলেজের ছাত্রশিবিরসহ বহিরাগতদের নিয়ে এসে এই হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি খালেদা জিয়ার ছবির পাশে টাঙানোর প্রতিবাদ জানানো হলে শিবির কর্মীরা চেয়ার নিক্ষেপ ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় তাদের একজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং তারা মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে কোনো আপোষ করবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে বিচার করা হবে এবং এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ক্যাম্পাসে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দুই দলের সভাপতি ও সম্পাদকদের নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক করছেন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

শেয়ার করুন