রাজধানীর উত্তরার নর্থ টাওয়ার হাউজবিল্ডিং এলাকায় ‘৩৬ জুলাই’ স্মরণে ‘জুলাই গ্রাফিতি আর্ট’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। শনিবার সকালে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের দুর্বলতা এবং জনগণের গণভোটের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষার কারণেই ভবিষ্যতে আবারও জুলাইয়ের মতো একটি গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সরকার যেন এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরিতে সতর্ক থাকে, সেই আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল আওয়ামী লীগের ভাষ্য অনুসরণ করে তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তারা জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হবে। জুলাই নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র বা অপমানজনক বক্তব্য দেশের মানুষ মেনে নেবে না এবং অপপ্রচারের পরিণতি ভালো হবে না। কোটি মানুষের অংশগ্রহণে অর্জিত এই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করেই বাংলাদেশ পরিচালিত হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন রাষ্ট্রের উদ্যোগে জুলাইয়ের স্মৃতি ও গ্রাফিতি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
উত্তরা এলাকা জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৎকালীন সরকারের বাহিনী সেখানে ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়ে নির্যাতন চালিয়েছে। তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। বিভিন্ন টকশোতে আওয়ামী লীগের পুরনো বয়ান প্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃত বা অপমান করার যেকোনো প্রচেষ্টা জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ২০ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত ‘স্মৃতিতে জুলাই’ শীর্ষক প্রতিযোগিতা এবং ২৫ জুলাই ‘তুলিতে জুলাই’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ৩১ জুলাই পর্যন্ত গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি চলবে এবং শেষদিন শহীদ মুগ্ধ মঞ্চে সেরা শিল্পীদের পুরস্কৃত করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জামায়াতের উত্তরা পূর্ব অঞ্চলের পরিচালক জামাল উদ্দিন, ইব্রাহিম খলিল, মাজহারুল ইসলাম, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, গাজী মনির হোসাইন, আবু সাঈদ, নিজাম উদ্দিন, ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, কামরুল হাসান ও তাহমিদ হুজাইফাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।





