১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুরের ইউরেনিয়ামবাহী বিমান আটকে দেওয়া নিয়ে যা বলল পাকিস্তান

প্রকাশ:

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বহনকারী কার্গো বিমানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি কোনো কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয় বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি মূলত ফ্লাইট রুট, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম পাঠানো সম্ভব হয়নি।

ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কূটনৈতিক ফ্লাইট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের আবেদনগুলো বেসামরিক বিমান চলাচল-সংক্রান্ত প্রটোকল মেনে নির্ধারিত সময়েই বিবেচনা করা হয়। সম্প্রতি যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তার বিষয়বস্তু মূলত রুট ও আকাশসীমা ব্যবহারের কারিগরি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনে অনেক সময় ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি হিসেবে না দেখে প্রকৃত কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখার আহ্বান জানিয়ে হাইকমিশন বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। আর সেই সমন্বয় প্রক্রিয়ার কারণে কোনো কোনো সময় ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুর প্রকল্পের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় ফ্লাইটটি সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, কেন অনুমতি পাওয়া যায়নি তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো অজানা। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নতুন সময়সূচীর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, কার্গো বিমান আসার সব ধরনের প্রস্তুতি বিমানবন্দরে সম্পন্ন করা ছিল। কিন্তু রোসাটমের একজন লিয়াজোঁ কর্মকর্তা তাদের জানান, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদন না পাওয়ায় ফ্লাইটটি আসতে পারছে না। এখন নতুন করে সময় নির্ধারণ করতে হবে।

পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ পারমাণবিক চুল্লির মাধ্যমে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে এই প্রকল্পের। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রথম চালানের ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছিল।

শেয়ার করুন