মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৪ আসামির মধ্যে চার ভাইসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সিংগাইরের গোবিন্দল গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। আদালত তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, সামছুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় অনুযায়ী, শামীম ও হাবু মিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মজনু মিয়াকে ১ বছর, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ৬ মাস এবং সাহেরা খাতুন ও খাতুনি বেগমকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় উজ্জ্বল মিয়া, অলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সিংগাইরের গোবিন্দল এলাকায় আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লাকে হত্যা করা হয়। নিহত আজিজ মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ১০ বছর পর এই আলোচিত মামলার রায় প্রদান করা হলো। সরকারি কৌঁসুলি আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান ও মেজবাউদ্দিন জানান, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক আমিনুর রহমান ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন।





