হরমুজ প্রণালির সন্নিকটবর্তী এলাকায় নিজেদের নৌবাহিনীর ‘চেওংহে’ নামক জলদস্যুবিরোধী ইউনিটের কাজের পরিধি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
গত বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে কেবল জনবলই নয়, বরং অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি বাড়ানোর দিকেও নজর দিচ্ছে সিউল। পরিকল্পনাটি কার্যকর করার আগে সরকারি মন্ত্রিসভার পর্যালোচনা ও প্রেসিডেন্টের অনুমোদন নেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে তা জাতীয় পরিষদে পাঠানো হবে। গত কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সদস্য মোতায়েনের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে আসছিল সিউল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, চেওংহে ইউনিটে আরও ৭৫ জন নতুন সদস্য যুক্ত করা হবে, যার ফলে এই ইউনিটের মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়াবে ৩৯৫ জনে। ২০০৯ সাল থেকে এই ইউনিটটি নিয়মিত মোতায়েন রয়েছে এবং প্রতি বছরই পার্লামেন্টের বার্ষিক অনুমোদনের ভিত্তিতে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে মূলত সোমালিয়ার উপকূলে এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমনের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পরিস্থিতিতে তারা কাজ করে থাকে। ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেওংহে নামের জলদস্যুবিরোধী ইউনিটে আরও ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে।
নতুন সংশোধিত প্রস্তাবে ইউনিটটির কার্যক্রমের এলাকা ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যা হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বা ৪০৩.৮ মাইল দূরে অবস্থিত। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা বৃদ্ধির পর হরমুজ প্রণালি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো যুদ্ধ বা সংঘাতমূলক পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার মতো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপও নেওয়া হবে না, যাতে দক্ষিণ কোরিয়া অন্য কোনো দেশের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি।
ইউনিটটিকে শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিশেষ সরঞ্জামের পরিকল্পনাও করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পি-৮এ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান, সমুদ্র তলদেশের মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার চালকবিহীন প্রযুক্তি এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে অত্যন্ত দক্ষ একটি বিশেষ সামরিক দল। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস জানিয়েছে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে হরমুজ অঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানোর পরিকল্পনাও করেছে দেশটি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস।





