১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে মার্কিন হামলার দাবি

প্রকাশ:

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের এসব এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পরিসরে হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

এই অভিযানগুলোকে মার্কিন কর্মকর্তারা মূলত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করা বা জাহাজে হামলার সক্ষমতা অর্জন থেকে তেহরানকে বিরত রাখাই এই হামলার মূল লক্ষ্য।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশাপাশি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স দাবি করেছে, হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দ ভেসে এসেছে। তবে এসব ঘটনায় হতাহত বা কোনো অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের সঙ্গে চলমান এই উত্তেজনার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছে এবং তারা তাতে জয়ী হয়েছে। তবে কয়েক মাস ধরে কোনো লড়াই চলছে না বলে দাবি করে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কিনা, তা আমি জানি না।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। এমনকি কাতারের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ আরও সহজ করতে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায়, যার ফলে ২৬টি মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস এবং শত কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ফের যুদ্ধ বাধলে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে ইরান। ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস, ক্ষতি শত কোটি ডলারের।

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করলেও, প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে গেছে। মঙ্গলবার ভোরে নতুন করে এই বিস্ফোরণের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশ দুটির মধ্যবর্তী অস্বস্তিকর সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি আবারও আলোচনায় উঠে এল।

শেয়ার করুন