১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুমকিতে প্রকল্পের অর্থে ব্যাপক অনিয়মের সত্যতা পেল দুদক

প্রকাশ:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় কাবিখা ও টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দিনব্যাপী দুদকের একটি বিশেষ দল উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসব অনিয়মের প্রমাণ সংগ্রহ করে।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরে গাড়ি ধোয়ার র‍্যাম্পের সামনে মাটি ভরাট না করেই নামমাত্র কিছু ইট ফেলে ২ লাখ ৩৭৪ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের ফুলবাগান ও উপজেলা পরিষদ মাঠে মাটি ভরাটের নামে প্রকল্প দেখানো হলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। শ্রীরামপুর ইউনিয়নে নলকূপ বরাদ্দ পাওয়ার দাবি করা ব্যক্তির অস্তিত্বও খুঁজে পায়নি তদন্তকারী দল। পাশাপাশি লেবুখালী ইউনিয়নে রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে সেখানে ১০ বছরের পুরনো কাজ দেখিয়ে অর্থ লোপাট করা হয়েছে।

তদন্তে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা বসানোর জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দের তথ্য পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ উন্নয়নের কাজেও ব্যাপক অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তাপস বিশ্বাস জানান, প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং প্রকল্প সভাপতিদের যোগসাজশেই এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে দ্রুত প্রধান কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে এবং কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মুঠোফোনে জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন। দুদক যেহেতু বিষয়টি তদন্ত করছে, তাই তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শেয়ার করুন