১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডে প্রথম গাইবান্ধার তামযীদ

প্রকাশ:

এইচএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী তামযীদ তাহসীন রেজা। তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) স্কুল ও কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১২২২ নম্বর পেয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছেন। এই কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের পর তিনি ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তামযীদ চুয়েটের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও শামছুন্নাহার বেগম শেফালী দম্পতির ছোট ছেলে। তার দাদা ও নানার বাড়ি গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপতিপুর (পাছপাড়া) গ্রামে। তার বড় ভাই তানযীম তাহমীদ রেজা চুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি তামযীদ মেধা ও মননশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে। তিনি জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে গণিত, বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স এবং কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডে একাধিকবার পুরস্কার পেয়েছেন। তার সাফল্যের ধারাবাহিকতা দীর্ঘদিনের; ২০১৮ সালে চুয়েট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১২৪৭ নম্বর অর্জন করে জিপিএ ৫ লাভ করেন। এরপর থেকে প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় তার সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত বাবা অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম সবার দোয়া চেয়েছেন। মা শামছুন্নাহার বেগম জানান, তামযীদ নিয়মিত পড়াশোনার জন্য রাতে ১২টার দিকে ঘুম থেকে উঠতেন। ছেলের পড়াশোনার আগ্রহ বাড়াতে তিনি অনেক রাত তার পাশে জেগে সময় কাটিয়েছেন। নিজের সাফল্যের বিষয়ে তামযীদ জানান, তিনি পড়াশোনায় কোনো নির্দিষ্ট বাঁধাধরা নিয়ম মানেননি, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি বিষয়ের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কলেজের শিক্ষক এবং বাবা-মায়ের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন তিনি। সফল্যের বিষয়ে তামাম বলেন, তিনি কোনো বাঁধাধরা নিয়মে পড়াশোনা করেননি। তাকে উৎসাহ দিতে তিনি বহু রাত ছেলের পড়ার টেবিলের পাশে বসে কাটিয়েছেন।

নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তামযীদের পরামর্শ হলো, শুধু কোচিং বা সহায়ক বইয়ের ওপর নির্ভর করা যাবে না। মূল পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি বিষয় আত্মস্থ করার পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা জরুরি। তিনি মনে করেন, নিজের তৈরি নোট নিয়মিত অনুশীলন, পরীক্ষার আগে পাঠ্যবই বারবার রিভিশন দেওয়া এবং মৌলিক ধারণা পরিষ্কার রাখলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। সিলেবাস শেষ করার পর তুলনামূলক কঠিন বিষয়গুলোতে বেশি মনোযোগ দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।

শেয়ার করুন