১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার রদবদল ও মজুত হ্রাসে ফের চড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অগ্রগতি এবং দেশটির তেলের মজুত কমে যাওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দর বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এদিন বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ১০ মিনিটে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দুই প্রধান সূচকেই দর বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়।

বাজারের তথ্যানুযায়ী, বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪ ডলার ৪২ সেন্টে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৯৬ ডলার ৫৯ সেন্টে দাঁড়ায়। এর আগের কার্যদিবসে ইউক্রেন ও ইরান পরিস্থিতির আশাব্যঞ্জক আলোচনার খবরে ব্রেন্টের দাম প্রায় চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৪ ডলার ৪২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদের কারণে তখন বাজারে দরপতন দেখা যায়।

মার্কিন নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যেতে পারে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে ইরানে সামরিক হামলা চালানো এবং অন্যদিকে বড় সংঘাত না বাড়ানোর মতো ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী অবস্থান তেলের বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ফিলিপ নোভার বাজার বিশ্লেষণ প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেবা জানান, অক্টোবরের বড় ধরনের দরবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের লাভ তুলে নেওয়া কিংবা ঝুঁকি কমানোটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তবে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার যে আশঙ্কা, তা এখনো পুরোপুরি অমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই।

বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়াও বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। বাজার সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের সঞ্চয় ৫২ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। যদিও রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা ৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল মজুত বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। একই সময়ে ডিজেলসহ পরিশোধিত জ্বালানির মজুত ১১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল কমলেও গ্যাসোলিনের মজুত বেড়েছে ১৪ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় তাদের অফিসিয়াল রিপোর্ট প্রকাশ করবে।

শেয়ার করুন