ক্রসফায়ার ইস্যুতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ারকে সমর্থন করে না। বরং বর্তমান সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘‘উনি (আইজিপি) সহজ–সরল মানুষ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আইজিপি মূলত আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে অসতর্কতাবশত এ কথা বলে ফেলেছেন। তিনি বলেন, আইজিপি সহজ-সরল মানুষ এবং তার এই মন্তব্যটি সঠিক ছিল না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার। এখন পর্যন্ত হেফাজতে মৃত্যু বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে মন্ত্রী দাবি করেন। তবে অপরাধ দমন এবং আইনের যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার যা যা দরকার, সব করবে।’’।
এর আগে সোমবার ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’— এমন মন্তব্য করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। এই বক্তব্যটি প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, যেমন জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টিসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানায়। এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’— আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের এই বক্তব্যের পরপর তাৎক্ষণিকভাবে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন মানবাধি।
তীব্র সমালোচনার মুখে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর এক ব্যাখ্যায় জানায়, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। মূলত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোরতা বোঝাতেই তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার যেকোনো মূল্যে বিচারবহির্ভূত মৃত্যু এবং পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর মতো অমানবিক কর্মকাণ্ড রুখতে বদ্ধপরিকর।





