১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইল নির্বাচনে ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, সরকার গঠনে চরম অনিশ্চয়তা

প্রকাশ:

ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও সরকার গঠনের মতো স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো রাজনৈতিক জোট। প্রাথমিক ফলাফলে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট এগিয়ে থাকলেও তাদের ক্ষমতায় ফেরার পথ এখনো নিশ্চিত নয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ৫০ লাখের বেশি ভোট গণনা সম্পূর্ণ করেছে।

আসন সমীকরণ ও পার্লামেন্টের হিসাব

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১২০ আসনের ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলে সরকার গঠনের জন্য পার্লামেন্টে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে দুই প্রধান জোটের কেউই এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

মঙ্গলবারের ভোটের প্রাথমিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে, আরবদের দুটি রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। এই আসনগুলো আগামী দিনে সরকার গঠনের জটিল সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে আসনসংখ্যার এই হিসেব নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিশেষ ব্যালট ও নির্বাচনের গুরুত্ব

দেশটিতে এখনো পাঁচ লাখের বেশি বিশেষ ব্যালট গণনা করা বাকি রয়েছে। এসব ভোটের মধ্যে সেনাসদস্য, কূটনীতিক এবং নিবন্ধিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোট দেওয়া অন্যান্য ব্যক্তিদের ব্যালট রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত ফলাফলে দলগুলোর আসনবণ্টনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ধ্বংসাত্মক হামলার পর এটিই ইসরাইলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই নির্বাচনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ৭৭ বছর বয়সি এই প্রধানমন্ত্রী এখনো রাজনৈতিকভাবে লড়াইয়ে রয়েছেন এবং নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও ঐক্য সরকারের সম্ভাবনা

নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সব দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবেন এবং সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবেন।

  • নির্বাচনের আগে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের যেকোনো সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিলেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট।
  • একইভাবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
  • প্রাথমিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পথে থাকায় বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত একটি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠিত হতে পারে, যেখানে আইজেনকটের জোটও যুক্ত হতে পারে।

বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিরোধী নেতা আইজেনকট বলেন, তার জোট এখন ইসরাইলে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা এবং নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তার দাবি, সাধারণ ভোটাররা বর্তমান সরকারের নীতি ও শাসনের প্রতি স্পষ্ট অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও আরব জোটের ভূমিকা

এদিকে নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতির মধ্যে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচন চুরির গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। লিকুদ পার্টির দাবি, কয়েকটি আরব অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রে ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি ও নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে। লিকুদ পার্টি জানিয়েছে, এসব অভিযোগের পক্ষে শত শত সাক্ষ্য ও প্রমাণ পুলিশ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, আরবদের প্রধান রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্ট বলেছে, আরব ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নেতানিয়াহু ও তার মিত্রদের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে বাধা দিতে মূল ভূমিকা রেখেছে। জয়েন্ট লিস্টের দাবি, ভোটাররা সব উসকানি ও ভয়ভীতির জবাব দিয়েছেন ব্যালটের মাধ্যমে। বাড়িঘর ধ্বংস, বর্ণবাদ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত সরকারের নীতির বিরুদ্ধেও তারা অবস্থান নিয়েছেন। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবরিন বলেছেন, তাদের জোট নেতানিয়াহুবিরোধী কোনো সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে, তবে সরাসরি সেই সরকারের অংশ হবে না।

শেয়ার করুন