১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শপথ পেছানোর চক্রান্ত |: ইসরাইলে আরব ভোট বাড়াতে কাতার-তুরস্কের অর্থায়নের

প্রকাশ:

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে কাতার ও তুরস্কসহ বিদেশি কোনো পক্ষ অর্থায়ন করেছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত। তদন্তকারীদের সন্দেহের তালিকায় কাতার ও তুরস্কের নাম রয়েছে।

নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ এই নির্দেশ প্রদান করেছেন।

দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিকে এই বিষয়ে সব ধরণের তদন্ত ক্ষমতা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি সোলবার্গ তার নির্দেশনায় উল্লেখ করেছেন যে, বিদেশি পক্ষগুলোর অর্থায়নের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফলে অনুচিত প্রভাব বিস্তারের শক্তিশালী সন্দেহ রয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে শিন বেতকে তাদের সব গোয়েন্দা ও আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, অতীতে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের সাথে এই অর্থপ্রবাহের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তের অংশ হিসেবে নগদ অর্থভর্তি খাম এবং রা’আম পার্টির ভোটের স্লিপ জব্দ করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নাগাদ চারজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। একইসাথে, অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলোও নজরদারিতে রয়েছে। সোলবার্গের চিঠি প্রকাশের পর ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জানায়, নগদ অর্থের খামের মাধ্যমে কথিত নির্বাচনি ঘুষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার আরও চার সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। লিকুদ দাবি করেছে যে, আরব দলগুলো ভোটারদের ঘুষ দিয়ে এই নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতিকে তারা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এবং ‘ভূমিকম্প’ বলে মন্তব্য করেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। লিকুদ দাবি করে, ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে শত শত সাক্ষ্য ও নথি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।

তদন্তের এই প্রেক্ষাপটে ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকট সব অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চলমান এই তদন্তকে কেন্দ্র করে যেন ২৬তম নেসেটের সদস্যদের শপথ গ্রহণের তারিখ পেছানোর কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত তৈরি না হয়।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি কাতার থেকে আসা অর্থায়নের সাথে জড়িত আরব নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, মুসলিম ব্রাদারহুড ও তাদের সহযোগী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক ৭ অক্টোবর’ হিসেবে অভিহিত করেন।

আর্মি রেডিওর তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য ব্যবহৃত মাধ্যমগুলোর সাথে সন্ত্রাসী অর্থায়নের মিল খুঁজে পাওয়ার সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। ইসরায়েলের নির্বাচনী ইতিহাসে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তে শিন বেতের এই সক্রিয়তাকে একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন