৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে অস্থিরতা তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ:

দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তবে সরকার তা কোনোভাবেই হতে দেবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বছর সারা দেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসাহ-উদ্দীপনাপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের তুলনায় এবারের আয়োজন ছিল অনেক বেশি নিরাপদ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সংবাদকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৫ থেকে ১৭ বছর দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও সন্ত্রাসী তৎপরতার ইতিহাস ছিল। সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে এবার সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশে পূজা উদযাপন সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্য ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অতীতের দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত ১৫ থেকে ১৭ বছরে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দুর্ঘটনা, অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো ঘটনা ঘটেছে। দুর্গাপূজার আয়োজন ও সরকারি সহায়তার তথ্য তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৬ সালে দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ স্থাপিত হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এবার কোনো ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে ‘প্রি-এমপটিভ’ বা আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন থেকে শুরু করে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রতিটি মুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর ষড়যন্ত্র আগেই শনাক্ত করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, ডিজিটাল পদ্ধতি ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অ্যাপের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত নজরদারি ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছিল।

সরকারি সহায়তার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এবার দুর্গাপূজার সরকারি অনুদান এক কোটি টাকা বৃদ্ধি করেছে। আগে যেখানে সর্বোচ্চ চার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, এবার তা বাড়িয়ে পাঁচ কোটি করা হয়েছে। এছাড়া পূজামণ্ডপপ্রতি চালের বরাদ্দ ১০০ কেজি বৃদ্ধি করে ৬০০ কেজিতে উন্নীত করা হয়েছে। পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে মোট পাঁচ দিনের সরকারি ছুটির ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল।

সবশেষে মন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রেখে সব ধর্মাবলম্বীকে সাথে নিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। দেশের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা ও সচেতনতাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ধরনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে যারা কাজ করেছেন, তাদের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি।

শেয়ার করুন