৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জে ২৩ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি বালু নদের সেতু

প্রকাশ:

রাজধানীর যানজট নিরসন এবং ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভোগান্তি কমাতে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া-নগরপাড়া এলাকায় বালু নদের ওপর একটি সেতুর পরিকল্পনা করা হয় ২০০৩ সালে। তৎকালীন সময়ে ৭৫ দশমিক ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু নির্মাণে ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও দীর্ঘ ২৩ বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। স্থানীয়রা নানা সময় মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও কাজের অগ্রগতি দেখতে পাননি। জানা গেছে, ২০০৩ সালে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া-নগরপাড়া এলাকার বালু নদে বহু প্রত্যাশিত বালু সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

প্রকল্পের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০১ সালে মাঝিনা-কায়েতপাড়া-ত্রিমোহনী সড়কের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং মেসার্স ইস্টার্ন ট্রেডার্স লিমিটেড কাজ পায়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভাষ্যমতে, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে মাত্র ৫০ লাখ টাকা উত্তোলনের পর আর কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির ফলে প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। ১৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু জানান, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে এটি শুরু হলেও রহস্যজনক কারণে মাঝপথে তা থমকে যায়। ১৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতিতে দরপত্রের মাধ্যমে ২০০৩ সালে বালু নদের সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়। রূপগঞ্জবাসীও উপকৃত হবে বলে তিনি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। সিডিউল অনুযায়ী সিমেন্ট, রড, বালু, পাথরসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে নির্মাণকাজে স্থবিরতা নেমে আসে। বালু সেতু নির্মাণ হলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সেতুবন্ধন তৈরি হতো। কিন্তু সেই স্বপ্ন বারবার ভেঙে যাচ্ছে।

উন্নয়নকাজের দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে ২০২১ সালে দ্বিতীয় দফায় নতুন করে দরপত্র ডাকা হয় এবং প্রায় ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবার কাজ পায় মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড বাদ্রার্স এবং মেসার্স সরদার এন্টারপ্রাইজ। সে বছরের মে মাসে কাজ শুরুর কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা ফের বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সেতুর দুটি পিয়ার, কলাম, ক্যাপ এবং পার্শ্বদেয়াল দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়ক নেই বললেই চলে। রডে মরিচা ধরে কাঠামোটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সরেজমিনে সেতুর নির্মাণ সাইটে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর দুটি পিয়ার, দুটি পিয়ারের কলাম, ক্যাপ, এক পাশে উইংওয়াল ও এবার্টমেন্ট দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সরেজমিনে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ঢাকার পূর্ব মাদারটেক ও সবুজবাগ হয়ে বালু নদ পার হয়ে সিলেট ও চট্টগ্রামের দিকে যাতায়াত সহজ করতে এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত কাজ শেষ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুতই কাজ শুরু করার প্রত্যাশা করছেন তারা। সেতুটি নিয়ে দুই দফায় টেন্ডারও হয়েছে। সেতুটিকে ঘিরে লাখো মানুষ বুকভরা আশা আর স্বপ্ন নিয়ে আছেন।

সেতুর অভাবে রূপগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার লাখো মানুষকে প্রতিদিন রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের জন্য প্রায় ১২-১৩ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে সেতুটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। বালু নদের এই সেতুটি চালু হলে তা কেবল স্থানীয়দের যাতায়াতই সহজ করবে না, বরং রাজধানীর প্রবেশপথের যানজট কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন