৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজই ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

প্রকাশ:

ইরানের ওপর যেকোনো সময় সামরিক হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে আজ রবিবারই তেহরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। শনিবার ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন কঠোর বার্তা দেন। ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা কতটা এগোচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে। গতকাল শনিবার ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর, পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, এ নিয়ে তারা গুরুত্বসহকারে ভাবছেন এবং রবিবারই হয়তো বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তবে অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি কৌশলী মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে চালানো অভিযান ছিল অপর্যাপ্ত এবং তাতে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি। আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন একটি স্থায়ী সিদ্ধান্তের দিকে এগোতে চাচ্ছেন। তার মতে, এ সংকট নিরসনে দুটি পথ খোলা রয়েছে—হয় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে চূড়ান্ত ইতি টানা, নয়তো ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানো। তিনি বলেন, বিষয়টির সুরাহা করতে আমি বাধ্য এবং যে পথই বেছে নেওয়া হোক না কেন, চূড়ান্ত জয় যুক্তরাষ্ট্রেরই হবে। তবে এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন বা স্থায়ী শান্তি এখনো অর্জিত হয়নি। ট্রাম্পের এই নতুন হুঁশিয়ারি অঞ্চলটির উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিল।

শেয়ার করুন